জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় হাই কোর্টের দেওয়া ১০ বছরের সাজার রায়ের বিরুদ্ধে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষে আপিলের শুনানি শেষ করেছেন আইনজীবীরা। গতকাল প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চে আবেদনের পক্ষে নিজেদের বক্তব্য উপস্থাপন শেষ করেন খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা। পরে রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্য উপস্থাপনের জন্য আজকে (বৃহস্পতিবার) দিন ধার্য করেছেন আপিল বিভাগ।
শুনানিতে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জয়নুল আবেদীন খালেদা জিয়ার আপিল মঞ্জুর করে হাই কোর্টের রায় বাতিলের আবেদন জানান। তিনি বলেন, এই মামলায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে কোনো তথ্য প্রমাণ নেই। তিনি এতিমের টাকা আত্মসাৎ করেছেন, এমন কোনো আলামতও নেই। এতটি বছর তাঁকে অপদস্ত করা হলো। এই অপদস্ত করতেই মামলাটি করা হয়েছে। তিনি শুধু জেলেই ছিলেন না, চিকিৎসাও পাননি। চিকিৎসার জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরেছে তাঁর পরিবার।
শুনানির পর তিনি সাংবাদিকদের বলেন, বিগত সরকার বিচার বিভাগের ওপর হস্তক্ষেপ করে যে রায় দিয়েছে সেই ধরনের রায় আমরা চাই না। আমরা চাই এই মামলায় খালেদা জিয়া ও অন্য কাউকে সাজা দেওয়ার মতো কোনো তথ্য প্রমাণাধি নেই। আমরা আদালতকে আইনগতভাবে সহায়তার চেষ্টা করেছি। আমরা মনে করি এই আদালতের ওপর কোনো হস্তক্ষেপ নেই। সেই কারণে তাঁরা নিরপেক্ষ একটি রায় দেবেন আশা করি। এদিন আদালতে জয়নুল আবেদীন ছাড়াও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন, সাবেক সম্পাদক বদরুদ্দোজা বাদল ও রুহুল কুদ্দুস কাজল শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনিক আর হক। আদালতে খালেদা জিয়ার পক্ষে আইনজীবী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, আমিনুল ইসলাম, জাকির হোসেন ভূঁইয়া, মো. মাকসুদ উল্লাহ প্রমুখ।
এর আগে গত ১১ নভেম্বর এ মামলায় হাই কোর্টের দেওয়া ১০ বছরের সাজার রায়ের বিরুদ্ধে খালেদা জিয়ার করা পৃথক দুটি লিভ টু আপিল মঞ্জুর করেন আপিল বিভাগ। একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে হাই কোর্টের দেওয়া ১০ বছরের সাজার রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত করেন। উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদন্ডাদেশ দেন বিচারিক আদালত। একই সঙ্গে এ মামলার অন্য পাঁচ আসামির প্রত্যেককে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদন্ড দেওয়া হয়। অরফানেজ ট্রাস্টের নামে সরকারি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদন্ড দেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫-এর বিচারক আখতারুজ্জামান। একই সঙ্গে এ মামলায় খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমানসহ অন্য পাঁচ আসামির প্রত্যেককে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদন্ড দেওয়া হয়। পাশাপাশি ছয় আসামির প্রত্যেককে ২ কোটি ১০ লাখ টাকা করে জরিমানা করেন আদালত। বাকি চার আসামি হলেন সাবেক মুখ্য সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, সাবেক এমপি ও ব্যবসায়ী কাজী সালিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ ও জিয়াউর রহমানের ভাগনে মমিনুর রহমান। এর মধ্যে পলাতক আছেন তারেক রহমান, কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও মমিনুর রহমান। এরপর বিচারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে খালাস চেয়ে হাই কোর্টে আপিল করেন খালেদা জিয়া, কাজী সালিমুল হক কামাল এবং ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ। পরে ২০১৮ সালের ৩০ অক্টোবর হাই কোর্ট খালেদা জিয়ার সাজা বাড়িয়ে ১০ বছরের কারাদন্ড দেন। হাই কোর্টের এ রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল আবেদন করেন খালেদা জিয়া।