বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তিতে পোষ্য কোটা বাতিল দাবিতে উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছে দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে। বৈষম্যহীন শিক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিতে এই কোটার বিরুদ্ধে ছাত্রছাত্রীরা বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে যাচ্ছেন। এই ইস্যুতে অচলাবস্থা বিরাজ করছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে। এ বিশ্ববিদ্যালয়ে পোষ্য কোটা বাতিলের পর তা পুনর্বহালের দাবিতে শাটডাউন কর্মসূচি পালন করছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এতে শিক্ষকদের রসদ জোগানোর অভিযোগ রয়েছে। ভর্তিতে কোটা বাতিল দাবিতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অনশন করছেন শিক্ষার্থীরা। ভর্তিতে পোষ্য কোটা বাতিল দাবিতে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও চলছে বিভিন্ন কর্মসূচি।
সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারে শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৩ জুলাই কোটা সংস্কার করে প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার। এতে মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনার সন্তানদের জন্য ৫ শতাংশ; ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জন্য ১ শতাংশ এবং শারীরিক প্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গের জন্য ১ শতাংশ বরাদ্দ রাখা হয়েছিল। এ প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ ছিল না পোষ্য কোটা। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে প্রতি বছরই ছাত্রছাত্রী ভর্তি করা হচ্ছে এই কোটায়।
আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধিরা জানান, ২০২২ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পোষ্য কোটা ১ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি করে ৪ শতাংশ করা হয়েছিল। ৫ আগস্টে স্বৈরাচার সরকার পতনের পর এই কোটা বাতিলের দাবি জোরালো হয়। পরে গত ১৪ নভেম্বরে এই কোটা ৩ শতাংশ রাখার সিদ্ধান্ত নেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তবে এ কোটা সম্পূর্ণ বাতিলের দাবিতে আমরণ অনশনে বসেন কিছু শিক্ষার্থী। পরে ১ জানুয়ারি কর্মচারীদের সন্তানের জন্য ১ শতাংশ পোষ্য কোটা রাখার সিদ্ধান্ত নেয় প্রশাসন। তবে এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে পরদিন প্রশাসন ভবনে তালা দেয় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সমন্বয়ক সালাউদ্দিন আম্মারসহ কিছু শিক্ষার্থী। তালাবদ্ধ অবস্থায় দুই উপ-উপাচার্যসহ শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীকে প্রায় ১২ ঘণ্টা অবরুদ্ধ রাখা হয়। পরে এ কোটা বাতিলের ঘোষণা দেন উপাচার্য। এর পর থেকেই এই পোষ্য কোটা ৫ শতাংশ করার দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। গতকাল তারা দাপ্তরিক কার্যক্রমে শাটডাউন কর্মসূচি পালন করেছেন। পোষ্য কোটা বাতিলসহ নয় দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি ও আমরণ অনশন করছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আট শিক্ষার্থী। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান বলেন, আমি কোনো প্রকার কোটার পক্ষে নই। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের গত ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে মোট ১২০ শিক্ষার্থী কোটায় ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় ৮৩ জন, পোষ্য কোটায় ২৩ জন ও প্রতিবন্ধী কোটায় ১৪ জন ভর্তি হয়েছেন। সূত্র জানায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতি বছর গড়ে অন্তত ২৬ জন পোষ্য কোটায় ভর্তি হন। ২০২০-২১ থেকে সর্বশেষ ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষ পর্যন্ত তথ্য পর্যালোচনা করে এমন চিত্র পাওয়া গেছে। কৃষি গুচ্ছের অন্তর্ভুক্ত শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়েও শিক্ষার্থী ভর্তি চলছে পোষ্য কোটায়। মুক্তিযোদ্ধার নাতি-নাতনিদের বির্তকিত কোটা ছাড়াও ওয়ার্ড কোটা নামেও এখানে রয়েছে পোষ্য কোটা। তবে সব কোটা সংশোধন করতে চায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। শেকৃবির বৃত্তি ও শিক্ষা শাখা থেকে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট আসনের ১১ শতাংশ শিক্ষার্থী কোটায় ভর্তি করা হয়। এর মধ্যে মোট আসনের ৩ শতাংশ আসনে ‘ওয়ার্ড কোটা’ নামে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীর সন্তান-সন্ততিদের ভর্তি করা হয়। কোটা নিয়ে শেকৃবি উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল লতিফ বলেন, আমরা সব কোটা সংশোধন চাই। এ বিষয়ে শিগগিরই কমিটি গঠন করব। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩৮ বিভাগে ৭৬টি আসন সংখ্যা রয়েছে পোষ্য কোটায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. রেজাউল করিম বলেন, পোষ্য কোটার বিষয়ে কমিটি করা হয়েছে। কমিটির প্রতিবেদন পেলে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।