পিঁয়াজের ভালো দাম পাওয়ায় এবার ঝিনাইদহের শৈলকুপায় রেকর্ড পরিমাণ জমিতে আবাদ করেছেন কৃষকরা। এ পর্যন্ত ১২ হাজার হেক্টর জমিতে পিঁয়াজ আবাদ করা হয়েছে। কৃষকরা জানান, এবার গ্রীষ্মকালীন পিঁয়াজের ফলন ভালো হয়েছে এবং দাম বেশি হওয়ায় তারা এবার ধান ও সরিষার পরিবর্তে ব্যাপকভাবে শীতকালীন পিঁয়াজের চারা রোপণ করছেন, যা অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি। চাষিরা এখন পিঁয়াজের চারা রোপণ ও খেত পরিচর্যা নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
স্থানীয় কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, শৈলকুপায় শীতকালীন পিঁয়াজ চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৮ হাজার ৪৭৫ হেক্টর জমিতে। কিন্তু এ পর্যন্ত রোপণ করা হয়েছে ১২ হাজার হেক্টর জমিতে। তবে চাষি ও চারা ব্যবসায়ীদের হিসাবে এবার ১৪ হাজার হেক্টর জমিতে পিঁয়াজ চাষ ছাড়িয়ে যাবে।
উপজেলার সারুটিয়া ইউনিয়নের বড়ুড়িয়া গ্রামের চাষি মিন্টু বিশ্বাস জানান, গত মৌসুমে তিনি ৮ বিঘা জমিতে পিঁয়াজের আবাদ করেছিলেন। দামও ভালো পেয়েছেন। তাই এবারও আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ও ভালো দাম পাওয়ার আশায় তিনি ১১ বিঘা জমিতে পিঁয়াজের আবাদ করেছেন। তিনি জানান, প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত এক বিঘা জমিতে পিঁয়াজ চাষে ২৫ হাজার টাকা খরচ হয়। বিঘাপ্রতি ৫০ থেকে ৮০ মণ ফলন হয়। খরচা বাদ দিয়ে প্রতি বিঘায় প্রায় ৫০ থেকে ৭০ হাজার টাকা লাভ হবে বলে তিনি জানান।
একই গ্রামের কৃষক সোহেল বিশ্বাস, লিটন মোল্লা ও মিন্টু মোল্লা জানান, তারা এ জমিতে গ্রীষ্মকালীন মুড়িকাটা পিঁয়াজ চাষ করেছিলেন। বিঘাপ্রতি ৫০-৬০ হাজার টাকা লাভ হয়েছে। তাই একই জমিতে শীতকালীন পিঁয়াজের চারা রোপণ করেছেন। শীতকালীন এ পিঁয়াজের চারা রোপণ করতে বিঘাপ্রতি খরচ ১৫-২০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। পিঁয়াজ উঠা পর্যন্ত আরও ১০-১২ হাজার টাকা খরচ হতে পারে। সব ঠিক থাকলে বিঘাপ্রতি ৫০-৮০ মণ ফলন হবে, যার বাজারমূল্য কমপক্ষে ১ লাখ টাকা। খুব কম সময়ের মধ্যে একই জমিতে আবার ৬০-৭০ হাজার টাকা লাভ হবে বলে আশা করছেন তারা।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরিফুজ্জামান খান জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার শৈলকুপায় পিঁয়াজ চাষ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে দেড়গুণ বেশি হবে। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে কৃষকদের বিভিন্ন পারামর্শ দেওয়া হচ্ছে। শৈলকুপা উপজেলার লাঙলবাঁধ বাজারে পিঁয়াজের চারা হাটে কয়েকজন কৃষক জানান, এবার গ্রীষ্মকালীন পিঁয়াজের ফলন ভালো হয়েছে এবং দাম বেশি হওয়ায় তারা ধান ও সরিষার পরিবর্তে পিঁয়াজের চারা রোপণ করছেন।