সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কারও দ্বৈত পাসপোর্ট আছে কি না তা অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন দুদক। এ লক্ষ্যে দুদকের মহাপরিচালক (মানি লন্ডারিং) মো. মোকাম্মেল হক স্বাক্ষরিত একটি চিঠি সরকারের উচ্চপর্যায়সহ বিভিন্ন দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।
১২ নভেম্বর বাংলাদেশ প্রতিদিনে ‘চাই ক্যারিবীয় দ্বীপের পাসপোর্ট’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসে সরকারের উচ্চমহল। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার (৬ জানুয়ারি) এ-সংক্রান্ত উদ্যোগ গ্রহণ করে দুদক।
৬ জানুয়ারি ইস্যু হওয়া ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, সম্প্রতি লক্ষ করা যাচ্ছে কতিপয় অসাধু সরকারি কর্মচারী তথ্য গোপন করে বাংলাদেশ ছাড়া ভিন্ন দেশের পাসপোর্ট গ্রহণ ও ব্যবহার করছেন। চলমান দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে শাস্তি অথবা আইনি পদক্ষেপ এড়ানোর লক্ষ্যে তারা বিভিন্ন দেশের পাসপোর্ট ব্যবহার করে সেসব দেশে অবস্থান করছেন। এভাবে ওই সন্দেহভাজন ব্যক্তিরা আইনি পদক্ষেপ থেকে রক্ষা করাসহ নিজেদের অপকর্ম ঢেকে রাখার প্রয়াস চালাচ্ছেন। এসব ক্ষেত্রে তাঁরা বাংলাদেশের পাশাপাশি একই সঙ্গে অন্যান্য দেশের নাগরিকত্ব গ্রহণ করে থাকেন। অথচ তাঁদের এ ধরনের কার্যকলাপ সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৪০ ধারার সম্পূর্ণ পরিপন্থি। ইতোমধ্যে পরিচালিত অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্যের উদ্ধৃতি দিয়ে চিঠিতে বলা হয়েছে, সরকারি কর্মচারীদের এরূপ একাধিক পাসপোর্ট গ্রহণের অন্যতম লক্ষ্য হলো, বাংলাদেশে দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত তাঁদের অবৈধ সম্পদ গোপন করে বিদেশে পাচার ও ভোগ করা। তাঁদের এরূপ কার্যকলাপ দেশে দুর্নীতি প্রসারে ভূমিকা রাখছে এবং অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত করছে। তা ছাড়া ভিন্ন একটি দেশে নাগরিকত্ব গ্রহণের পর বাংলাদেশের সরকারি চাকরির নৈতিক দায়দায়িত্বের প্রতি তাঁদের অনাগ্রহ পরিলক্ষিত হয়, যা কোনোক্রমেই বাঞ্ছনীয় নয়।