বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান দেশ হওয়ায় কৃষি ও কৃষিজাত পণ্য রপ্তানির সম্ভাবনা অনেক। কিন্তু দেশীয় রপ্তানিতে সম্ভাবনাময় এ খাতের অবদান তুলনামূলকভাবে কম। কয়েক বছর ধরে এ খাতে রপ্তানি কমলেও চলতি অর্থবছরে আগের বছরের তুলনায় কিছুটা বেড়েছে। ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসের তুলনায় ২০২৪ এ ডিসেম্বরে এ খাতে রপ্তানি বেড়েছে ১৪ দশমিক ৪১ শতাংশ। এ ছাড়া ২০২৩ সালের শেষ ছয় মাসের তুলনায় ২০২৪ সালের শেষ ছয় মাসে রপ্তানি বেড়েছে ৯ দশমিক ৩১ শতাংশ। ব্যবসায়ীরা বলছেন, রপ্তানি বাড়লেও আশা অনুযায়ী বাড়েনি। এখনো বিভিন্ন ধরনের চা, সবজি রপ্তানিতে বাংলাদেশ পিছিয়ে আছে। চা এবং সবজি গত বছরের তুলনায় আরও কমছে। বর্তমানে যে পরিমাণ কৃষিজাত পণ্য রপ্তানি বেড়েছে এর দ্বিগুণ রপ্তানি হওয়ার কথা বলে জানান ব্যবসায়ীরা। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্যানুযায়ী, চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) কৃষিজাত পণ্যের রপ্তানি বেড়েছে ৯ দশমিক ৩১ শতাংশ। ২০২৩-২৪ অর্থবছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বরে রপ্তানি হয়েছে ৫৪৪ দশমিক ৭৭ মিলিয়ন ডলার। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বরে রপ্তানি বেড়ে হয়েছে ৫৯৫ দশমিক ৫১ মিলিয়ন ডলার। আর ২০২৩-২৪ অর্থবছরে রপ্তানি হয়েছে ৯৬৪ দশমিক ৩৪ মিলিয়ন ডলার।
কৃষিজাত পণ্যের মধ্যে রয়েছে প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্য, চা, শাকসবজি, তামাক, ফল, মসলা, শুকনো খাবার, তৈলবীজ, পান, প্রাণী বা উদ্ভিদ থেকে পাওয়া চর্বি ও তেল, চিনি ও মিষ্টি খাবার, পানীয়, স্পিরিট ও ভিনেগার এবং তেলসহ অন্যান্য পণ্য। এর মধ্যে চলতি অর্থবছরের প্রথমার্ধে চায়ের রপ্তানি বেড়েছে ৪৬ দশমিক ৫১ শতাংশ। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে চা রপ্তানি হয়েছে ১ দশমিক ৭২ মিলিয়ন ডলার। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বরে রপ্তানি বেড়ে হয়েছে ২ দশমিক ৫২ মিলিয়ন ডলার। সবজি রপ্তানি কমে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বরে রপ্তানি হয়েছে ২৯ দশমিক ৬০ মিলিয়ন ডলার। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে রপ্তানি হয়েছে ৭০ দশমিক ৩৬ মিলিয়ন ডলার। তামাক ২০২৩-২৪ অর্থবছরে রপ্তানি হয়েছে ১২৫ দশমিক ৫৩ মিলিয়ন ডলার। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বরে রপ্তানি বেড়ে হয়েছে ১৭৮ দশমিক ৪৭ মিলিয়ন ডলার। ফল ২০২৩-২৪ অর্থবছরে রপ্তানি হয়েছে ৯ দশমিক ৬৬ মিলিয়ন ডলার। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বরে রপ্তানি বেড়ে হয়েছে ২৯ দশমিক ৪ মিলিয়ন ডলার। মসলা ২০২৩-২৪ অর্থবছরে রপ্তানি হয়েছে ২৫ দশমিক ৬৭ মিলিয়ন ডলার। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বরে রপ্তানি বেড়ে হয়েছে ২৯ দশমিক ৮২ মিলিয়ন ডলার। এ ছাড়া প্রথমার্ধে ড্রাই ফুড রপ্তানি বেড়েছে ২ দশমিক ২ শতাংশ। তেলবীজ রপ্তানি কমছে ৩১ দশমিক ৩৩ শতাংশ। প্রাণী বা উদ্ভিদ থেকে পাওয়া চর্বি ও তেল রপ্তানি বেড়েছে ৮২ দশমিক ১১ শতাংশ। বাংলাদেশ ফ্রুটস ভেজিটেবল অ্যান্ড অ্যালাইড প্রোডাক্টস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, কৃষি ও কৃষিজাত পণ্য রপ্তানিতে বাংলাদেশের অনেক সম্ভাবনা রয়েছে। তবে আমরা এখনো সম্ভাবনা ঠিকমতো কাজে লাগাতে পারিনি। এই সময়ে রপ্তানি আরও বাড়ার কথা।