ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত ঈসা বিন ইউসুফ আল দুহাইলান বলেছেন, পূর্ব-দক্ষিণ এশিয়ার বাজারে তেল রপ্তানির হাব গড়বে সৌদি আরব। সে জন্য বাংলাদেশে তেল রিফাইনারি কারখানা করতে চাই।
গতকাল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ‘সৌদি-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি : প্রবণতা, মূল চ্যালেঞ্জ এবং দীর্ঘমেয়াদি সম্ভাবনা’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। পররাষ্ট্র সচিব জসিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন।
সৌদি রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশ-সৌদি আরব সম্পর্ক শুধু জনশক্তি রপ্তানির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না। বাংলাদেশে তেল রিফাইনারি কারখানা করে পূর্ব-দক্ষিণ এশিয়ার বাজারে তেল রপ্তানির হাব গড়া যেতে পারে।
তিনি বলেন, ২০১৬ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে আরামকোর একটি বড় প্রতিনিধিদল তিনবার বাংলাদেশ ঘুরে গেছে। কেউই তখন এ বিষয়ে কোনো আগ্রহ দেখানি। কিন্তু আমরা অতীত নিয়ে পড়ে থাকতে চাই না। আমরা কথা বলব ভবিষ্যৎ নিয়ে।
অতীতের কথা উল্লেখ করে ঈসা বিন ইউসুফ আল দুহাইলান বলেন, অনেক বড় প্রকল্প সাবেক প্রধানমন্ত্রীর অফিস থেকে সুনির্দিষ্ট মন্ত্রণালয়ে গেলে আটকে থাকত। ব্যক্তিস্বার্থে এসব প্রকল্প আটকে ফেলা হতো বলে আমার ধারণা। তিনি বলেন, একুয়াপাওয়ার যখন বাংলাদেশে সাড়ে ৩ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগে আগ্রহী ছিল, তখন প্রতিষ্ঠানটিকে সুযোগ দেওয়া হয়নি। অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, সৌদি কোম্পানি আরামকোর মতো দক্ষিণ কোরিয়ার স্যামসাংকেও বিমানবন্দর থেকে তাড়িয়ে দিয়েছিল শেখ হাসিনা সরকার। এমন ভুল নীতির কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিনিয়োগ না বাড়ার কারণ শুধু দুর্নীতি না, অতীতে পলিসিগত নানা ভুল সিদ্ধান্তও নিয়েছিল সরকার। তিনি আরও বলেন, বাণিজ্য বাড়ানোর কাজটা সরকারের একার না, সরকার পরিবেশ তৈরি করবে প্রাইভেট সেক্টর সেটার সুবিধা নিয়ে বাণিজ্য বাড়াবে। পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন বলেন, এতদিন বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশের কথা যতটা বলা হয়েছিল, ততটা ছিল না। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকার বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সঠিক পরিবেশ দিতে বদ্ধপরিকর।
সব দেশের জন্যই জনশক্তি প্রশিক্ষণ দিতে হবে আমাদের।