আগামী ফেব্রুয়ারিতে ভারতের ভূপালে ন্যাশনাল জুডিশিয়াল একাডেমিতে অনুষ্ঠেয় প্রশিক্ষণে ৫০ বিচারকের অংশগ্রহণের অনুমতি বাতিল করেছে সরকার। গতকাল সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়।
এর আগে ৫০ বিচারকের প্রশিক্ষণের জন্য ভারত যেতে সরকারের অনুমতি দেওয়ার খবরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ২০১৭ সালে ভারত সফরে করা চুক্তির আওতায় এসব বিচারককে ভারতে পাঠানো হচ্ছিল। প্রতিবেশী দেশটির সঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ে চলা নানা সমস্যার মধ্যেই এ খবরে শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা।
কেউ কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে লিখেন, এসব বিচারককে ভারতে পাঠানো হলে, প্রশিক্ষণের পরিবর্তে ব্রেন ওয়াশ করে পাঠানো হবে দেশে। অনুমতি বাতিল করে গতকাল আইন মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনার
পরিপ্রেক্ষিতে ভূপালের জুডিশিয়াল একাডেমি ও একটি স্টেট জুডিশিয়াল একাডেমিতে ১০ থেকে ২০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রশিক্ষণে বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ বাতিল করা হয়েছে। গত ৩০ ডিসেম্বর ৫০ কর্মকর্তাকে প্রশিক্ষণের জন্য ভারতে যাওয়ার অনুমতি দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। সুপ্রিম কোর্টের পরামর্শের পরিপ্রেক্ষিতে এ অনুমতি দিয়েছিল আইন মন্ত্রণালয়। প্রজ্ঞাপনে প্রশিক্ষণের জন্য সহকারী জজ, সিনিয়র সহকারী জজ, যুগ্ম জেলা ও জজ, অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ, জেলা ও দায়রা জজ এবং সমপর্যায়ের কর্মকর্তাদের মনোনয়ন দেওয়া হয়। বলা হয়, প্রশিক্ষণের যাবতীয় ব্যয় ভারত সরকার বহন করবে। এতে বাংলাদেশ সরকারের কোনো আর্থিক সংশ্লেষ নেই।
২০১৭ সালের এপ্রিলে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে বাংলাদেশের বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ ও সামর্থ্য বাড়ানোর লক্ষ্যে বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্ট এবং ভারতের ন্যাশনাল জুডিশিয়াল একাডেমির মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।
ওই সমঝোতা স্মারকের পর একই বছরের ২৯ জুলাই এক অনুষ্ঠানে তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা (এস কে সিনহা) বলেছিলেন, পৃথিবীর প্রত্যেকটা দেশে উচ্চ আদালতের বিচারকদের জন্য ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা আছে।
ভারতের প্রত্যেকটা রাজ্যে একটি জুডিশিয়ারি ট্রেনিং ইনস্টিটিউট আছে উচ্চ আদালতের বিচারকদের ট্রেনিংয়ের জন্য। ভূপালে তাদের জাতীয় জুডিশিয়ারি একাডেমি আছে। সেখানে আমাদের ১৫০০ থেকে ১৬০০ বিচারকের ট্রেনিংয়ের জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছি। এরপর প্রথমবারের মতো ওই বছরের ১০ অক্টোবর থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত প্রশিক্ষণ নিতে ভারতে যান বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তারা। পর্যায়ক্রমে ইতোমধ্যে অনেক বিচারক প্রশিক্ষণ নিয়েছেন।