স্বৈরাচার শেখ হাসিনার সরকার পতনের পর ইউজিসিতে হযবরল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। পরিস্থিতি সামাল দিতে ৩৩ জনকে অবৈধভাবে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে সেখানে। যেসব পদে বিজ্ঞপ্তি ও পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগের কথা ছিল নিয়ম ভেঙে সেগুলোতে দেওয়া হয়েছে পদোন্নতি। এতে বালাই ছিল না কোনো প্রকার বিজ্ঞপ্তি বা পরীক্ষার। অর্গানোগ্রামের বাইরে দুজনকে পদায়ন করা হয়েছে পরিচালক পদে। এ ক্ষেত্রেও তোয়াক্কা করা হয়নি নীতিমালার। এ ছাড়া নিয়মতান্ত্রিকভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত সাবেক সচিব ফেরদৌস জামানকে অন্য শাখায় সরিয়ে সেই চেয়ার দখলে নিয়েছেন বর্তমান সচিব ফখরুল ইসলাম। অথচ সব প্রক্রিয়া অনুসরণ করে শূন্যপদে সচিব পদে নিয়োগ পেয়েছিলেন ফেরদৌস জামান। নতুন সচিব ফখরুল ৫ আগস্টের পট পরিবর্তনের আগেও আওয়ামী লীগ সরকার ও শেখ হাসিনার গুণকীর্তন করে সংবাদপত্রে কলাম লিখেছেন। অবৈধভাবে পদায়নপ্রাপ্তদের বৈধতা দিতে শিগগিরই ফুল কমিশন বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা গেছে। তথ্যমতে, ইউজিসিতে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির পদে বাছাই কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে নিয়োগ দিতে হবে। দিতে হবে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি। প্রার্থী বাছাইয়ের জন্য দুটি কমিটি থাকতে হবে। কিন্তু ইউজিসির ৩৩ কর্মকর্তা পদোন্নতির ক্ষেত্রে এসব কোনো নিয়মই মানা হয়নি। শূন্য পদে নিয়োগ হওয়ার কথা থাকলেও পদোন্নতি দিয়ে এসব পদ দখল করা হয়েছে। জানা গেছে, সচিব ফখরুল ইসলাম নিয়োগ বোর্ডের কেউ না হলেও তাঁর সুপারিশের ভিত্তিতে অবৈধভাবে এসব পদোন্নতি দেওয়া হয়। সুপারিশ কমিটিতে ছিলেন উপপরিচালক থেকে যুগ্ম সচিব ও পরে অতিরিক্ত পরিচালক পদ বাগিয়ে নেওয়া নাজমুল ইসলামও। অর্থাৎ নিজের পদোন্নতির সুপারিশ নিজেই করেছিলেন নাজমুল।
বিধিমতে ইউজিসিতে নতুন পদ ও বিভাগ সৃষ্টি করতে অর্থ কমিটি এবং পূর্ণ কমিশন সভার অনুমোদন নিতে হবে। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ এ দুই কমিটির সিদ্ধান্ত ছাড়াই বিধিবহির্ভূতভাবে দুই পরিচালক পদ সৃষ্টি করা হয়েছে। সূত্র জানায়, পরিচালক হিসেবে পদায়ন পাওয়া নাহিদ সুলতানা চাকরিজীবন শুরু করেছিলেন রিসিপশনিস্ট পদে। তৃতীয় শ্রেণির পদ থেকে উঠে আসা একজন কর্মচারীকে অতিরিক্ত পরিচালক পদে পদোন্নয়নের সময়ও ২০২০ সালে ইউজিসির পূর্ণ কমিশন সভায় শিক্ষা সচিব, অর্থ সচিব তাঁকে নিয়ে আপত্তি তুলেছিলেন বলে জানা গেছে। কমিশনে তৃতীয় শ্রেণির কম্পিউটার অপারেটর পদে যোগ দিয়েছিলেন মোস্তাফিজুর রহমান। একের পর এক পদোন্নতি নিয়ে উপপরিচালক হয়েছেন। কিন্তু নিয়ম অনুযায়ী, প্রথম শ্রেণির চাকরিতে আপগ্রেডেশনের সুযোগ নেই। এ ছাড়াও কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে যোগদান করে পদোন্নতি পেয়ে অতিরিক্ত পরিচালক হয়েছেন সুরাইয়া ফারহানাও। উপপরিচালক হিসেবে পদোন্নতি পাওয়া মোরশেদ আলম খন্দকারের শিক্ষাজীবনে তৃতীয় শ্রেণি রয়েছে বলে জানা গেছে। নিয়ম অনুযায়ী, তৃতীয় বিভাগ পাওয়া কোনো ব্যক্তি প্রথম শ্রেণির কোনো চাকরির জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন না। সব মিলিয়ে অবৈধভাবে পদোন্নতি দেওয়া হয় ৩৩ কর্মকর্তাকে। ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এসএমএ ফায়েজ বলেন, ‘আমি যোগদানের পূর্বেই আগের সচিবকে সরিয়ে সেখানে বর্তমান সচিব ফখরুল ইসলামকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘আগে অনেক কর্মকর্তা বঞ্চিত ছিলেন। তাদের বাড়তি আর্থিক সুবিধা না দিয়ে সম্মান দেওয়ার চেষ্টা করেছি।’ অর্গানোগ্রামের বাইরে পরিচালক পদায়নের ব্যাপারে বলেন, অর্গানোগ্রাম পরিবর্তন করা হয়েছে। শিগগিরই এটি ফুল কমিশন বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে।