তাকওয়া বা আল্লাহভীতি হলো, আল্লাহর ভয়ে সব ধরনের পাপ কাজ থেকে বেঁচে থাকা। এটিই হচ্ছে সব নেক কাজের মূল উৎস। যার ভেতর আল্লাহভীতি আছে সে সব ধরনের পাপ কাজ থেকে বেঁচে থাকে এবং শরিয়তের বিধানগুলো পালনে যত্নশীল হয়। আর যার ভেতর আল্লাহভীতি নেই সে খুব সহজেই পাপ কাজে জড়িয়ে পড়ে।
তাই আমাদের জন্য আল্লাহভীতি অর্জন এবং তাঁর নিদর্শনগুলো জেনে রাখা উচিত। বিখ্যাত ফকিহ আবুল লাইস সামারকান্দি (রহ.) আল্লাহভীতির ১০টি নিদর্শন বর্ণনা করেছেন :
১. গিবত থেকে জবানকে হেফাজত করা : আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘তোমরা একে অপরের গিবত করো না।’ (সুরা : হুজুরাত, আয়াত : ১২)
২. খারাপ ধারণা থেকে বেঁচে থাকা : আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘তোমরা নানা প্রকার ধারণা থেকে বেঁচে থাকো। নিশ্চই কতক ধারণা পাপ। (সুরা : হুজুরাত, আয়াত : ১২)
৩. তিরস্কার থেকে বেঁচে থাকা : আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘হে ঈমানদাররা, কোনো সম্প্রদায় যেন অন্য কোনো সম্প্রদায়কে তিরস্কার না করে, হতে পারে তারা তিরস্কারকারীদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ। আর কোনো নারীও যেন অন্য নারীকে তিরস্কার না করে, হতে পারে তারা তিরস্কারকারীদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ। আর তোমরা একে অপরের নিন্দা কোরো না এবং তোমরা একে অপরকে মন্দ উপনামে ডেকো না। ঈমানের পর মন্দ নাম কতই না নিকৃষ্ট! আর যারা তাওবা করে না, তারাই তো জালিম।’ (সুরা : হুজুরাত, আয়াত : ১১)
৪. হারাম বিষয় থেকে চক্ষুকে অবনমিত ও সংযত রাখা : আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘মুমিন পুরুষদের বলো, তারা তাদের দৃষ্টিকে সংযত রাখবে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হেফাজত করবে। এটাই তাদের জন্য অধিক পবিত্র। নিশ্চয়ই তারা যা করে সে সম্পর্কে আল্লাহ সম্যক অবহিত।’
(সুরা : নুর, আয়াত : ৩০)
৫. সত্য ও ন্যায়সংগত কথা বলা : আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘যখন তোমরা কিছু বলবে, তখন বাস্তব ও ন্যায়সংগত কথা বলবে।’
(সুরা : আনআম, আয়াত : ১৫২)
৬. আল্লাহর নিয়ামতের কথা বেশি বেশি স্মরণ করা : আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘আল্লাহ তোমাদের ওপর অনুগ্রহ করেছেন যে তিনি তোমাদের হিদায়াতের পথ দেখিয়েছেন। যদি তোমরা সত্যবাদী হও।’ (সুরা : হুজুরাত, আয়াত : ১৭)
৭. ধন-সম্পদকে সৎপথে ব্যয় করা, অন্যায় পথে ব্যয় না করা : আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘আর তারা যখন ব্যয় করে তখন অপব্যয় করে না এবং কার্পণ্যও করে না; বরং মাঝামাঝি অবস্থানে থাকে।’
(সুরা : ফুরকান, আয়াত : ৬৭)
৮. দম্ভ, অহংকার ও বড়াই না করা : আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘এটি হচ্ছে আখিরাতের নিবাস, যা আমি তাদের জন্য নির্ধারিত করি, যারা জমিনে ঔদ্ধত্য দেখাতে চায় না এবং ফাসাদও চায় না। আর শুভ পরিণাম মুত্তাকীদের জন্য।’ (সুরা : কাসাস, আয়াত : ৮৩)
৯. পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ যথাযথভাবে আদায় করা : আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘তোমরা সব নামাজের প্রতি যত্নবান হও। বিশেষভাবে মধ্যবর্তী (আসরের) নামাজের ব্যাপারে। আর তোমরা আল্লাহর সামনে বিনয়-নম্রভাবে দাঁড়াও।’
(সুরা : বাকারাহ, আয়াত : ২৩৮)
১০. আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের আদর্শ ও বিশ্বাসে অবিচল থাকা : আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘এটি তো আমার সোজা পথ। সুতরাং তোমরা তার অনুসরণ করো এবং অন্যান্য পথ অনুসরণ কোরো না, তাহলে তা তোমাদের তাঁর পথ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেবে। তিনি তোমাদের এর উপদেশ দিচ্ছেন। হয়তো তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করবে।’
(সুরা : আনআম, আয়াত : ১৫৩)
আল্লাহ তাআলা সবাইকে গুণগুলো অর্জন করার তাওফিক দান করুন, আমিন।
লেখক : খতিব, কাঠগড়া কেন্দ্রীয় মসজিদ, আশুলিয়া, ঢাকা