সিরিয়ায় প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের পতনের পর সিরিয়া পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য গতকাল সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে প্রথম আঞ্চলিক বৈঠকে বসছেন মধ্যপ্রাচ্য ও পশ্চিমা দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও শীর্ষ কূটনীতিকরা। বৈঠকে যোগ দিতে গতকাল সকালেই রিয়াদে পৌঁছেছেন জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী। ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ল্যামিও বৈঠকে অংশ নেবেন বলে মনে করা হচ্ছে। সম্মেলনের আগে জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী বেয়ারবক সাংবাদিকদের বলেন, ‘ক্ষমতার এ পালাবদলের সময়ে সিরিয়ার দ্রুত অর্থনৈতিক সহযোগিতা প্রয়োজন এবং সিরিয়ায় যাদের কিছুই নেই তাদের আমরা সহযোগিতা চালিয়ে যাব যেমনটা আমরা পুরো গৃহযুদ্ধের সময়ে করেছি। আমরা খাদ্য, জরুরি আশ্রয় কেন্দ্র এবং স্বাস্থ্যসেবার জন্য আরও ৫ কোটি ইউরো দেব।’
এ ছাড়া সৌদি আরব, মিসর, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, বাহরাইন, ইরাক, জর্ডান, লেবানন এবং তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরাও সবাই রিয়াদে গেছেন শনিবারেই। আরও গেছেন ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এবং যুক্তরাষ্ট্রের দূতরাও। অন্য আরও কয়েকটি আরব ও পশ্চিমা দেশের শীর্ষ কর্মকর্তাদেরও বৈঠকে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
ইসলামপন্থি বিদ্রোহী গোষ্ঠী হায়াত তাহরির আল-শামের ১২ দিনের ঝড়ো অভিযানের মুখে গত বছর ৮ ডিসেম্বরে পতন হয় সিরিয়ার বাশার আল-আসাদ সরকারের। আসাদ পালিয়ে গিয়ে আশ্রয় নেন রাশিয়ায়। পরে বিদ্রোহী নেতা আহমেদ আল-শারা এখন আন্তর্জাতিক বিশ্বকে তার দেশের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে বলছেন। এ নিয়ে আলোচনার জন্যই সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে একত্রিত হয়েছেন কূটনীতিকরা।
২০১১ সালে সিরিয়ায় সরকারবিরোধী বিক্ষোভ নিষ্ঠুরভাবে দমন করেছিল আসাদ সরকার। আসাদ সরকারের ওই দমন-পীড়নের জেরে জাতিসংঘ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ পশ্চিমা শক্তিগুলো সিরিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। সরকারবিরোধী ওই বিক্ষোভ থেকে সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধ ছড়িয়ে পড়েছিল। ১৩ বছরের বেশি সময় ধরে ওই গৃহযুদ্ধ চলেছে। যুদ্ধে ৫ লাখের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। দেশটির অর্থনীতি ধ্বংস হয়ে গেছে এবং লাখ লাখ মানুষ বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন। অনেকে ইউরোপে আশ্রয় নিয়েছেন।
মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে বড় অর্থনীতির দেশ সৌদি আরব। ২০১২ সালে সিরিয়ার আসাদ সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে সৌদি আরব। দেশটি দীর্ঘদিন ধরে আসাদ সরকারের উৎখাতের পক্ষে প্রচারণাও চালিয়েছে। কিন্তু ২০২৩ সালে রিয়াদ সরকার সে দেশে আয়োজিত আরব লিগের একটি বৈঠকে আসাদকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। এ মাসে দেশটি সড়ক ও আকাশ পথে সিরিয়ায় খাবার, থাকার ব্যবস্থা এবং ওষুধ পাঠিয়েছে। তবে শুধু ত্রাণ পাঠিয়ে নয় বরং কীভাবে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটির পুনর্গঠনে সহায়তা করা যায়, তা নিয়ে রিয়াদ এখন আলোচনা করছে। এএফপি