মধ্য আমেরিকাকে স্থবির করে দিয়েছে তুষারঝড়। দুই দিন ধরে ভয়ংকর তুষারপাত হয়েছে। এর ফলে রাস্তায় বেশ কয়েক ফুট পুরু বরফের চাদর জমে গেছে। দেশটির ৩০টির বেশি অঙ্গরাজ্যের ৬ কোটি মানুষ এ তীব্র তুষারঝড়ে আক্রান্ত হয়েছে। প্রবল বাতাস পরিস্থিতি আরও দুর্বিষহ করে তুলেছে। কিছু অঞ্চলে এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভারী তুষারপাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এখন পর্যন্ত সাত অঙ্গরাজ্যে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। কানসাস, পশ্চিম নেব্রাস্কা ও ইন্ডিয়ানার কিছু অংশে বরফ প্রধান রাস্তাগুলো ঢেকে ফেলেছে। ন্যাশনাল গার্ডের সদস্যরা রাস্তায় আটকে পড়া গাড়িগুলো বের করতে সাহায্য করছেন। এ অবস্থা চলতে থাকলে ওই সব এলাকায় ৮ ইঞ্চি পর্যন্ত তুষারপাতের আশঙ্কা রয়েছে। তুষারঝড়ের কারণে ৭২ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা বেগে বাতাস বইতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে কেন এলো তুষারঝড় : প্রকৃতপক্ষে অত্যধিক ঠান্ডা বাতাসের মেরু ঘূর্ণি সাধারণত উত্তর মেরুর চারপাশে ঘোরে। যখন এ ঘূর্ণি দক্ষিণ দিকে ছড়িয়ে পড়ে তখন আমেরিকা, ইউরোপ এবং এশিয়ায়ও ভয়াবহ ঠান্ডা পড়ে। আর্কটিক দ্রুত উষ্ণ হয়ে উঠছে। এর ফলে মেরু ঘূর্ণি শিগগিরই আসছে। তাই আমেরিকা এবং ইউরোপে ঠান্ডা বেড়ে গেছে। মার্কিন জাতীয় বিভাগ জানিয়েছে, উত্তর মেরুর বরফাচ্ছাদিত এলাকা থেকে চরমভাবাপন্ন আবহাওয়া নিয়ে আঘাত হেনেছে এ পোলার ভরটেক্স।
তুষারপাত এবং ঘূর্ণিঝড়ের শঙ্কা : ইন্ডিয়ানায় ইন্টারস্টেট ৬৪, ইন্টারস্টেট ৬৯ এবং ইউএস রুট ৪১-এর কিছু অংশ বরফে সম্পূর্ণরূপে ঢেকে গেছে। ইন্ডিয়ানা স্টেট পুলিশ জনগণকে রাস্তায় গাড়ি না চালাতে বলেছে। বরফ সরানোর যানবাহন কাজে লেগেছে। সার্জেন্ট টড রিঙ্গল বলেছেন, ‘তুষারপাত এতটাই তীব্র যে বরফ সরানোর যানবাহনগুলো বরফ সরানোর জন্য এগিয়ে যায় এবং তারপর আধ ঘণ্টার মধ্যেই রাস্তাগুলো আবার সম্পূর্ণরূপে ঢেকে যায়।’ -বিবিসি, এএফপি