হামাসের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের এক ঐতিহাসিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকটি খুবই ফলপ্রসূ হয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন বিশেষ দূত অ্যাডাম বোয়েলার। তিনি আশাবাদী যে, কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই গাজায় আটক বন্দিদের মুক্তি সম্ভব হবে।
সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বোয়েলার বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ১৯৯৭ সাল থেকেই হামাসকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করে আসছে। তাই সংগঠনটির নেতাদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় বসা তার জন্য ‘অস্বাভাবিক’ লাগলেও, আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি তিনি।
সমঝোতার চেষ্টা ও বন্দিমুক্তির আলোচনা
বোয়েলার জানান, যুক্তরাষ্ট্র এই সংলাপের মাধ্যমে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যকার ভঙ্গুর আলোচনা পুনরায় সচল করতে চায়। তিনি মনে করেন, আলোচনার ফলে শুধু আমেরিকানদের নয়, সব বন্দিকে মুক্ত করা সম্ভব হতে পারে।
হামাসের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, বৈঠকগুলো কাতারের রাজধানী দোহায় অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং বিশেষভাবে আমেরিকা-ইসরায়েল দ্বৈত নাগরিক এক বন্দির মুক্তির বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। হামাসের রাজনৈতিক উপদেষ্টা তাহের আল-নোনো জানান, তারা আলোচনায় ইতিবাচক ও নমনীয় অবস্থান নিয়েছেন, যা ফিলিস্তিনি জনগণের স্বার্থ রক্ষা করবে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের আকস্মিক হামলায় ইসরায়েলে ১,২১৮ জন নিহত হন, যাদের বেশিরভাগই ছিলেন বেসামরিক নাগরিক। হামাস তখন ২৫১ জনকে জিম্মি করে, যার মধ্যে বেশ কয়েকজন মার্কিন নাগরিকও ছিলেন। এখনো আনুমানিক ৫৮ জন বন্দি গাজায় আটক রয়েছেন।
এ ঘটনায় প্রতিক্রিয়ায় ইসরায়েল গাজায় সামরিক অভিযান শুরু করে, যা ১৫ মাসেরও বেশি সময় ধরে চলছে। এই অভিযানের ফলে লাখ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
নতুন সমঝোতার সম্ভাবনা
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বন্দিমুক্তির বিষয়টি তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের তালিকায় রয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের জানান, ২১ বছর বয়সী আমেরিকান বন্দি এডান আলেকজান্ডারের মুক্তি নিশ্চিত করাই তাদের লক্ষ্য।
প্রাথমিক যুদ্ধবিরতির আওতায় কিছু বন্দি মুক্তি পেলেও, স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার পরবর্তী ধাপ নিয়ে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে মতানৈক্য চলছে।
এর মধ্যে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, অবশিষ্ট সকল বন্দি মুক্তি না দিলে গাজার ওপর আরও কঠোর হামলা চালানো হবে। তিনি এটিকে হামাসের জন্য ‘শেষ সতর্কবার্তা’ বলে উল্লেখ করেন।
বোয়েলার বলেন, এই আলোচনার ব্যাপারে ইসরায়েলের অসন্তোষ তিনি বুঝতে পারছেন, তবে যুক্তরাষ্ট্র কোনো পক্ষের হয়ে কাজ করছে না। তার মতে, মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি দেখা প্রয়োজন, যদিও হামাসের কর্মকাণ্ড জানার পর তাদের সঙ্গে মুখোমুখি বসা ছিল ‘অস্বস্তিকর’।
বিডিপ্রতিদিন/কবিরুল