সার্বিয়ার সংসদের ভেতর সরকারি এমপিদের লক্ষ্য করে ধোঁয়ার গ্রেনেড এবং কাঁদানে গ্যাস ছুড়েছেন বিরোধী দলের এমপিরা। এমন বিশৃঙ্খলার মধ্যে এক এমপি স্ট্রোক করেন এবং আহত হন আরও দুজন।
সংসদে নজিরবিহীন বিশৃঙ্খলা
চার মাস ধরে দেশটিতে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে ব্যাপক আন্দোলন চলছে। এতে কৃষক, শ্রমিকসহ সাধারণ জনগণও যোগ দিয়েছে। মঙ্গলবার (৪ মার্চ) তাদের সমর্থনে বিরোধী এমপিরা সংসদে ধোঁয়ার গ্রেনেড নিক্ষেপ করেন।
প্রেক্ষাপট: আন্দোলনের কারণ
২০২৪ সালে নোভি সাদ রেলস্টেশনের ছাদ ধসে ১৫ জন নিহত হন। এর পর থেকেই সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ এনে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ শুরু করে। আন্দোলনের চাপে প্রধানমন্ত্রী মিলোসি ভুকেভিক পদত্যাগ করলেও ক্ষোভ কমেনি। বর্তমানে প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডার ভুকিচের এক দশকের শাসন সংকটে পড়েছে।
সংসদ অধিবেশনে বিশৃঙ্খলা
মঙ্গলবার ক্ষমতাসীন দল সার্বিয়ান প্রোগ্রেসিভ পার্টি (SNS) সংসদে প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগসহ বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে আলোচনা শুরু করলে বিরোধী এমপিরা উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। তারা স্পিকারের দিকে এগিয়ে যান, নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে বিবাদে জড়ান এবং ধোঁয়ার গ্রেনেড ছোড়েন।
সরাসরি সম্প্রচারিত বিশৃঙ্খলা
টিভি সম্প্রচারে দেখা যায়, সংসদের ভেতর থেকে গোলাপি ও কালো ধোঁয়া বের হচ্ছে। স্পিকার আনা বার্নাবিক জানান, এতে সরকারি দলীয় এমপি জেসমিনা ওব্রাদোভিক স্ট্রোক করেন। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখে সংসদ অধিবেশন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
বিরোধীদের প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ
অধিবেশন চলাকালে বিরোধী এমপিরা বাঁশি ও হর্ন বাজিয়ে প্রতিবাদ করেন। সংসদের বাইরে সাধারণ মানুষ নোভি সাদের দুর্ঘটনায় নিহতদের স্মরণে নীরবতা পালন করে এবং আগামী ১৫ মার্চ বিশাল র্যালির ঘোষণা দেয়।
বিরোধীদের ক্ষোভের কারণ
সংসদে বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যয় বৃদ্ধি সংক্রান্ত একটি আইন পাস হওয়ার কথা ছিল। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ নিশ্চিত করার বিষয়টিও আলোচনায় আসার কথা ছিল। তবে এসবের পরিবর্তে সরকার অন্যান্য এজেন্ডা নিয়ে আলোচনা শুরু করায় বিরোধীরা ক্ষুব্ধ হন।
সূত্র: রয়টার্স
বিডি প্রতিদিন/আশিক