গাজা যুদ্ধবিরতি নিয়ে নতুন নাটক মঞ্চস্থ করছে ইসরায়েল। চুক্তি অনুযায়ী, শনিবার ছয় ইসরায়েলি জিম্মিকে মুক্তি দিয়েছে হামাস। তবে শর্তানুযায়ী ৬২০ জন ফিলিস্তিনিকে মুক্তি দেওয়া হয়নি। এ নিয়ে দখলদার ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, হামাস পরিচালিত জিম্মিদের মুক্তি অনুষ্ঠান ‘অপমানজনক’ হওয়ায় তারা ফিলিস্তিনি বন্দিদের মুক্তি দিতে অস্বীকার করেছেন। এর ফলে, ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে চুক্তি সম্পর্কিত মতবিরোধ আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। খবর এএফপি।
ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ অভিযোগ করেছে, হামাস যখন ইসরায়েলি জিম্মিদের মুক্তি দেয়, তখন মঞ্চে তাদের নিয়ে আসা হয় এবং হাত নেড়ে গাজাবাসীদের উদ্দেশে অভিবাদন জানাতে বাধ্য করা হয়। নেতানিয়াহু এ বিষয়টি ‘অপমানজনক’ এবং প্রোপাগান্ডার অংশ হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যা তিনি বলেন, এটি আমাদের জিম্মিদের অসম্মান করে। তার মতে, এ ধরনের অনুষ্ঠানের মাধ্যমে জিম্মিদের ব্যবহার করা হচ্ছে, যা ইসরায়েলের পক্ষ থেকে একেবারেই নিন্দনীয়।
ইসরায়েল দাবি করেছে, হামাস বারবার চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন করেছে। নেতানিয়াহু কার্যালয় থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, এই অপমানজনক অনুষ্ঠানগুলো বন্ধ না হলে পরবর্তী পর্যায়ে ফিলিস্তিনি বন্দিদের মুক্তির বিষয়টি স্থগিত রাখা হবে। তিনি উল্লেখ করেন, যতদিন না হামাস এমন অনুষ্ঠান ছাড়া জিম্মিদের মুক্তি দেবে, ততদিন যুদ্ধবিরতি চুক্তির পরবর্তী ধাপের বিষয়ে কোনো আলোচনা হবে না।
যদিও হামাসের মুখপাত্র আবদেল লতিফ আল-কানৌউ ইসরায়েলের এই সিদ্ধান্তকে চুক্তির বড় লঙ্ঘন হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি বলেন, ইসরায়েল পূর্বনির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে বন্দিদের মুক্তি দিতে ব্যর্থ হয়েছে। কানৌ আরও বলেন, চুক্তির শর্ত পূরণে ইসরায়েলকে বাধ্য করতে মধ্যস্থতাকারীদের কাছে আহ্বান জানিয়েছেন।
এছাড়া গতকাল শনিবার বিকেলে মুক্তিপ্রাপ্ত এক ইসরায়েলি ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের দুই যোদ্ধার কপালে চুমু খেয়েছেন। যা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ভাইরাল হওয়া এক ভিডিওতে নুসিরাতের হস্তান্তরের স্থানে মঞ্চে উপস্থিত হয়ে জিম্মি ইসরায়েলিদের হাসতে দেখা গেছে। এ সময় জিম্মিদের একজন তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ফিলিস্তিনি দুই যোদ্ধার কপালে চুমু খান। সূত্র : আল-জাজিরা।
বিডি-প্রতিদিন/শআ