জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ শোলজ বলেছেন, ইউক্রেনের সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ প্রকৃত অর্থে শেষ হবে না।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই সপ্তাহে মিত্রদের বিস্মিত করেছেন এবং ওয়াশিংটনের ইউক্রেনকে সমর্থনের দীর্ঘদিনের নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছেন। তিনি ঘোষণা করেছেন, শিগগিরই তিনি রুশ নেতা ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করে যুদ্ধবিরতির আলোচনা শুরু করতে পারেন। এতে কিয়েভকে কঠিন আপস করতে বাধ্য করা হতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে শোলজ বলেন, ‘শুধু তখনই শান্তি আসবে, যখন ইউক্রেনের সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বাধ্যতামূলক শান্তিকে আমরা কখনো সমর্থন করবো না। আমরা এমন কোনো সমাধানও গ্রহণ করবো না, যা ইউরোপীয় ও মার্কিন নিরাপত্তার মধ্যে বিচ্ছিন্নতা সৃষ্টি করবে। এতে একমাত্র লাভবান হবেন প্রেসিডেন্ট পুতিন।’
জার্মান চ্যান্সেলর বলেন, ‘আমরা ইউরোপীয়রা আসন্ন আলোচনায় আমাদের স্বার্থ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ও ঐক্যবদ্ধভাবে উপস্থাপন করব।’
শোলজ এই বক্তব্য দেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভোলোদিমির জেলেনস্কির ভাষণের আগে, যেখানে ইউরোপীয় নেতারা ও নীতিনির্ধারকরা অংশ নিচ্ছিলেন। জেলেনস্কি শুক্রবার বলেন, তিনি ‘নিরাপত্তার নিশ্চয়তা’ চান। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্সের সঙ্গে বৈঠকে ট্রাম্প প্রশাসনের যুদ্ধবিরতি উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা করেন।
শোলজ বলেছেন, যদি শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়, তবে রাশিয়া যাতে আবার আক্রমণ না চালাতে পারে তা নিশ্চিত করতে ইউক্রেনের সমর্থকদের ‘প্রথমত’ দেশটির সশস্ত্র বাহিনীকে আরো শক্তিশালী করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ‘যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে ইউক্রেনের এই সক্ষমতা নিশ্চিত করার দায়িত্ব ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সহযোগী ও বন্ধুদের নিতে হবে। আমরা যে নিরাপত্তা নিশ্চয়তা দেব, তা এই ভিত্তির ওপর নির্ধারিত হওয়া উচিত।’
বিডি প্রতিদিন/আরাফাত