যুক্তরাষ্ট্রে চলছে অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান। এতে অন্যান্য দেশের মতো নথিপত্রহীন ভারতীয় অভিবাসীদেরও নিজ দেশে ফিরতে হচ্ছে।
এবার যেন ট্রাম্পের পথেই হাঁটা শুরু করল যুক্তরাজ্যও। ইউরোপের এই দেশটি এবার অবৈধ অভিবাসীদের ধরতে ব্যাপক অভিযান শুরু করেছে। দেশটিতে বহু অবৈধ ভারতীয় রয়েছে এবং অন্যান্যদের মতো তাদেরও ধরতে ভারতীয় রেস্তোরাঁগুলোর পাশাপাশি বিভিন্ন নেইল বার, কনভেনিয়েন্স স্টোর ও কার ওয়াশের স্থানগুলোতে চালানো এই অভিযানে চলছে ধরপাকড়।
মূলত এসব স্থানেই অবৈধ অভিবাসীদের নিয়োগ করা হয়ে থাকে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, গত কয়েক দিন ধরেই একের পর এক ভারতীয় রেস্তরাঁ, গাড়ি পরিষ্কার করার দোকানে অভিযান চালাচ্ছেন সেখানকার প্রশাসনিক কর্মকর্তারা। যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইউভেট কুপারের কার্যালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উত্তর ইংল্যান্ডের হামবারসাইড এলাকার একটি ভারতীয় রেস্তরাঁ থেকেই সাতজন অবৈধ অভিবাসীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়া একই সন্দেহে আটক করা হয়েছে আরও চারজনকে।
এই অভিযান নিয়ে ইতোমধ্যেই মুখ খুলেছেন ব্রিটেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কুপার। তিনি বলেছেন, “অভিবাসন আইন অবশ্যই মেনে চলা উচিত।”
পূর্ববর্তী কনজারভেটিভ পার্টির সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেছেন, “বহুদিন ধরে নিয়োগকারীরা অবৈধভাবে শ্রমিক নিয়োগ করে তাদের শোষণ করেছেন। এই সমস্ত শ্রমিক অবৈধভাবে কাজ করে গেলেও কোনও পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি।”
ব্রিটিশ সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত জানুয়ারি মাসেই ৮২৮টি জায়গায় অভিযান চালানো হয়েছে। গত বছরের জানুয়ারি মাসের তুলনায় এই ধরনের অভিযানের সংখ্যা ৪৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এক মাসে গ্রেফতার হয়েছেন ৬০৯ জন।
ভারতীয় সংবাদসংস্থা পিটিআই-এর প্রতিবেদন অনুসারে, গ্রেফতারের সংখ্যা গত বছরের তুলনায় ৭৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বৈধ পরিচয়পত্রহীন শ্রমিকদের নিয়োগ করার জন্য নিয়োগকারী সংস্থা কিংবা ব্যক্তিকে ১০৯০টি নোটিসও পাঠিয়েছে ব্রিটিশ সরকার।
মূলত ব্রিটেনের রাজনৈতিক পরিসরে ক্রমশ নিজেদের অবস্থান জোরালো করছে ‘রিফর্ম ইউকে’-র মতো কট্টরপন্থি দলগুলো। এই দলগুলো কঠোর অভিবাসন নীতি প্রণয়নের পক্ষে। সেক্ষেত্রে বহুমুখী চাপের সামনে অভিবাসন নীতি কঠোর করার পক্ষেই হাঁটতে পারে ব্রিটেনের বর্তমান ক্ষমতাসীন লেবার সরকার। সূত্র: এনডিটিভি
বিডি প্রতিদিন/একেএ