ব্রেক্সিটের পাঁচ বছর পর প্রথমবারের মতো ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশ নিতে যাচ্ছেন। তিনি বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে প্যালেস দ’এগমন্টে ইইউর ২৭টি সদস্য রাষ্ট্রের নেতাদের সঙ্গে প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা করবেন। এছাড়া, তিনি ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করবেন। স্টারমার এই সফরকে যুক্তরাজ্য ও ইইউর মধ্যে সম্পর্ক পুনর্গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।
যদিও স্টারমার প্রশাসন একক বাজার বা কাস্টমস ইউনিয়নে পুনরায় যোগ না দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তবে প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা, অপরাধ দমন এবং বাণিজ্যে আরও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক চায়। এই আলোচনা আগামী বসন্তের মধ্যে চূড়ান্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে, যা এপ্রিল বা মে মাসের ইউকে-ইইউ সম্মেলনের আগেই গৃহীত হতে পারে। যুক্তরাজ্য ও ইইউ যৌথভাবে বড় অপরাধ মোকাবিলা, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং জ্বালানি খাতে সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। এছাড়া, পেশাদার যোগ্যতার স্বীকৃতি, সংগীতশিল্পীদের সহজ যাতায়াত এবং তরুণদের জন্য নতুন ভ্রমণ স্কিম চালুর বিষয়েও আলোচনা চলছে।
স্টারমার বলেছেন, "আমি আমাদের ইউরোপীয় অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করতে এসেছি রাশিয়ার ওপর চাপ বজায় রাখতে। পুতিনের যুদ্ধ যন্ত্রকে দুর্বল করার জন্য রাশিয়ার জ্বালানি রাজস্ব ও অস্ত্র কারখানায় সরবরাহকারী কোম্পানিগুলোর ওপর আরও কড়াকড়ি আরোপ করতে হবে।" ইইউও তাদের প্রতিরক্ষায় আরও দায়িত্ব নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করেছে, যা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি প্রধান দাবি। তবে, যুক্তরাজ্যের ইইউর সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনের এই প্রচেষ্টা নিয়ে দেশটির রাজনীতিতে বিতর্ক চলছে।
কনজারভেটিভ নেতা কেমি বাডেনচ দাবি করেছেন, "লেবার সরকার অতীতের বিভাজনগুলো পুনরায় উসকে দিচ্ছে এবং যুক্তরাজ্যকে আবার ইইউর দিকে ঠেলে দিচ্ছে।" অন্যদিকে, লিবারেল ডেমোক্র্যাটদের নেতা স্যার এড ডেভি বলেছেন, "সরকারের উচিত কাস্টমস ইউনিয়নে পুনরায় যোগ দেওয়ার আলোচনা করা।"
সোর্স: বিবিসি
বিডি প্রতিদিন/আশিক