মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত নয় দিনে ৭২০০ অবৈধ অভিবাসীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় আরো ৫ হাজার ৭৬৩ জনকে আটক করা হয়েছে সীমান্ত অতিক্রমের সময়। এদেরকে সামরিক বিমানে নিজ নিজ দেশে পাঠিয়ে দেয়ার কার্যক্রম পুরোদমে চলছে বলে আইস (ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এ্যানফোর্সমেন্ট) জানিয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশে এই অভিযানে নিউইয়র্ক, শিকাগো, বস্টনের মত স্যাঙ্কচুয়ারি সিটিও বাদ যায়নি। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া তৈরী হলেও কার্যত: সিটি ও স্টেট প্রশাসনের পক্ষ থেকে আইসকে সহায়তাই দেয়া হচ্ছে।
উল্লেখ্য, অবৈধভাবে বসবাসরতদের মধ্যে যারা গুরুতর অপরাধী তাদেরকে গ্রেফতারের এই অভিযান এখোন বিস্তৃত হয়েছে মেক্সিকো হয়ে বেআইনীভাবে সীমানা অতিক্রমকারিদের ধরপাকড়েও।
ট্রাম্পের সীমান্ত সুরক্ষায় নিয়োজিত কর্মকর্তা টম হোম্যান শনিবার জানিয়েছেন যে, সহিংসতায় লিপ্তদেরকেই গ্রেফতারের অভিযান চলছে। সমাজের শান্তি বিনষ্টকারী হিসেবে চিহ্নিতদের রেহাই দেয়া হবে না বলে উল্লেখ করেন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি মন্ত্রী ক্রিস্টি নইম। হত্যা, খুন, ধর্ষণ, ছিনতাই, মাদক ব্যবসায়ীরাও গ্রেফতার হচ্ছে। ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্ট হিসেবে আগতরাও ধরা পড়ছেন ভিসার রীতি লংঘনের দায়ে।
এদিকে, এই অভিযানের খেসারত দিচ্ছেন ছোট ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা। রেস্টুরেন্ট, গ্রোসারি, ক্যান্ডি স্টোর, নিউজস্ট্যান্ড, ফুডকার্ট, খুচরা স্টোরগুলোর কর্মচারির অধিকাংশই ছিলেন অবৈধ অভিবাসী। এরা আত্মগোপনে যাওয়ায় এসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় সমস্যা হচ্ছে। বৈধ অভিবাসীদের নিয়োগ করলে ন্যূনতম মজুরি দিতে হয় বিধায় প্রায় সময়ই ব্যবসায়ীরা অবৈধদের নিয়োগ করে নামমাত্র মজুরি দিতেন। এরফলে লাভের অংক বাড়তো।
চলমান অভিযানে গভীর হতাশা ব্যক্ত করেছেন ফিলাডেলফিয়া সিটির স্বর্ণালংকার ব্যবসায়ী কামরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ট্রাম্পের এই অভিযানের কারণে সর্বত্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ক্রেতার সংকট দিনদিনও বাড়ছে। মনে হচ্ছে ভূমিকম্পে আক্রান্ত ব্যস্ততম এলাকাগুলোও। লোক-চলাচল কমেছে। নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য-সামগ্রির গ্রাহকও ক্রমান্বয়ে হ্রাস পাচ্ছে। কেউই স্বস্তিতে নেই বলে মনে হচ্ছে।
বিডি প্রতিদিন/নাজিম