রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়ে পুলিশের ওপর বাম ছাত্র সংগঠনের নেতা-কর্মীদের হামলার প্রতিবাদে এবং ছাত্র ইউনিয়ন নেত্রী লাকি আক্তারসহ ফ্যাসিবাদের দোসরদের গ্রেপ্তার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এ ছাড়াও একই দাবিতে শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে ইনকিলাব মঞ্চ। গতকাল বিকাল ৪টায় শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনের রাস্তায় একপাশে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করে ইনকিলাব মঞ্চ। গণজাগরণ মঞ্চের অন্যতম সংগঠক লাকি আক্তার ও অন্যদের গ্রেপ্তারের আগ পর্যন্ত এই অবস্থান কর্মসূচি চলমান থাকবে বলে জানিয়েছেন মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ উসমান হাদী। তিনি বলেন, কালকে পুলিশের হাতে লাঠি ছিল না, তারা টিয়ারগ্যাস বা সাউন্ড গ্রেনেডও মারেনি। কিন্তু পুলিশের ওপর আগে হামলা করা হয়েছে। এই পুলিশরা তো কিছু করেনি, কাউকে ধর্ষণ করেনি। তাহলে তাদের ওপর ক্ষোভ কীসের? গতকাল শাহবাগীরা গেছে ধর্ষকদের শাস্তির দাবিতে কিন্তু তারা স্লোগান দিয়েছে ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে। তাই পুলিশের ওপর হামলাকারী শাহবাগের ‘কসাই’ লাকি আক্তার ও সেবাদাসদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করতে হবে। তিনি আরও বলেন, আমরা আজকে এখন থেকেই শাহবাগে অবস্থান নিচ্ছি। আমরা এখানেই ইফত করব। আমরা রাস্তা অবরোধ করব না। কিন্তু এই লাকি আক্তারসহ অন্যদের গ্রেপ্তার না করা পর্যন্ত এখান থেকে উঠব না। এ সময় ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকে পাঁচ দফা দাবি জানান প্লাটফর্মটির মুখপাত্র শরীফ উসমান হাদী। দাবিগুলো হলো- ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতের জন্য দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে ৯০ দিনের মধ্যে অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে; প্রধান উপদেষ্টার বাসভবনের সামনে পুলিশের ওপর হামলা করে দেশকে অস্থিতিশীল করতে মব সৃষ্টিকারী হামলাকারীদের অতি দ্রুত গ্রেপ্তার করতে হবে; শাপলা ‘কসাই’ লাকি আক্তার ও অন্যান্যদের গ্রেপ্তার করে ২০১৩ সালের শাহবাগের সব ষড়যন্ত্র উন্মোচন করতে হবে; জাতিসংঘকে অন্তর্ভুক্ত করে শাপলা ও সব গণহত্যার সুষ্ঠু তদন্ত করতে হবে; জুলাই গণহত্যার দৃশ্যমান বিচার শুরু করে অতি দ্রুত আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করতে হবে।
পুলিশের ওপর হামলা ১২ জনের বিরুদ্ধে মামলা : ধর্ষণবিরোধী পদযাত্রা কর্মসূচি চলাকালে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় ১২ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাত আরও ৭০-৮০ জনকে এ মামলায় আসামি করেছে পুলিশ। গতকাল রাজধানীর রমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম ফারুক এ তথ্য জানিয়েছেন।
পুলিশের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার বিকাল আনুমানিক সাড়ে ৩টায় ধর্ষণবিরোধী পদযাত্রার নামে নারী-পুরুষসহ ৬০-৭০ জনের একটি বিক্ষোভকারী দল প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন যমুনা অভিমুখে যাওয়ার চেষ্টা করে। পুলিশ হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়ে তাদের বাধা দেয়। তখন ওই পদযাত্রায় অংশগ্রহণকারীরা নারীদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে সামনে এগোনোর চেষ্টা করে। ওই এলাকায় রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা ও যান চলাচল স্বাভাবিক রাখার স্বার্থে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের সরে যেতে অনুরোধ করলে তারা উল্টো পুলিশের ওপর চড়াও হয়। তখন বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারী নারীদের নখের আঁচড়ে বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন। একপর্যায়ে পদযাত্রাকারীরা পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে লিপ্ত হয় এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত পুলিশ সদস্যদের ওপর অতর্কিত ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে ও লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালায়।
এ সময় তাদের হামলায় ডিএমপির রমনা বিভাগের সহকারী কমিশনার (এসি) আবদুল্লাহ আল মামুন গুরুতর আহত হন। এ ছাড়া রমনা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মো. মাসুদ আলম, দুই নারী পুলিশ সদস্য এবং তিনজন পুরুষ কনস্টেবল আহত হন। পরে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দিয়ে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।