স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, ধর্ষণের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে রয়েছে সরকার। ভিডিও ফুটেজ দেখে অপরাধী শনাক্ত করা হবে। গতকাল সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কোর কমিটির সভা শেষে আইন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা এ কথা বলেন। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, মাগুরার ঘটনায় যারা অভিযুক্ত তাদের সবাইকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতে কাজ করবে সরকার। একইভাবে যদি দেশের কোথাও নারীর প্রতি কোনো সহিংসতা বা ধর্ষণের মতো ঘটনা ঘটে, তাদের সম্পূর্ণভাবে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে। তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। বাংলাদেশে ধর্ষণের বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’।
তিনি বলেন, ধর্ষণসহ নারী ও শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ধর্ষণসহ সব ধরনের নারী ও শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যেসব অপরাধের ভিডিও ফুটেজ পাওয়া যাবে, সেগুলো সংগ্রহ করে ফ্যাক্ট চেকিং করে অপরাধীদের শনাক্ত করা হবে এবং আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপদেষ্টা বলেন, রমজানে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে প্রায় শতাধিক তল্লাশিচৌকি/চেকপোস্ট বসানো হয়েছে এবং অপরাধপ্রবণ এলাকায় টহল সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। সেনাবাহিনী, পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট ও বিজিবির সমন্বয়ে যৌথ বাহিনী টার্গেট এলাকাগুলোতে জোরদার অপারেশন পরিচালনা করছে। রমজানে চাঁদাবাজি ও ছিনতাই প্রতিরোধ এবং বিভিন্ন বিপণিবিতানে যাতায়াতকারী ক্রেতা-বিক্রেতাদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করে যাচ্ছে। এ ব্যাপারে তারা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। রমজান ও আসন্ন ঈদে সাধারণ জনগণের যাতায়াত নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করার লক্ষ্যে মহাসড়কগুলোতে চাঁদাবাজি ও ছিনতাই রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। হিজবুত তাহরীর বিষয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, হিজবুত তাহরীর একটি নিষিদ্ধ সংগঠন। বাংলাদেশে তারা কোনোভাবেই কোনো কার্যক্রম চালাতে পারবে না। তাদের যেকোনো কার্যক্রমের বিরুদ্ধে এখন থেকে কঠোর অবস্থান নেবে সরকার। অন্যায়ের শিকার সাধারণ মানুষ কোনো থানা বা পুলিশের কাছে গিয়ে উপকার না পেলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেন, তদন্ত কর্মকর্তা ৩০ দিনের মধ্যে কাজ শেষ করতে না পারলে পরিবর্তন করে আরেকজনকে দেওয়া হতো। তিনিও না পারলে আরেকজনকে দেওয়া হতো। অনেকবার কর্মকর্তা পরিবর্তন হতো। এতে বিচার কাজে দেরি হতো। এখন যাকে তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে নির্দিষ্ট করা হবে, তাকেই নির্দিষ্ট সময়ে তদন্ত কাজ শেষ করতে হবে। তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন করা যাবে না। সংশোধনীতে তদন্তের সময় অর্ধেক কমিয়ে ১৫ দিন করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ৯০ দিনের মধ্যে বিচার করতে হবে। এই সময়ের মধ্যে বিচার শেষ না হলে সেই অজুহাতে কাউকে জামিন দেওয়া যাবে না। ১৮০ দিনের মধ্যে বিচার না হলে জামিন দেওয়া যেত। ধর্ষণের মামলায় বিচারের ক্ষেত্রে গাফিলতি থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুনির্দিষ্ট বিধান আইনে সংযোজন করা হবে।
আইন উপদেষ্টা বলেন, ধর্ষণের মামলায় ডিএনএ সনদ লাগত কিন্তু সারা দেশে এ ব্যবস্থা নেই। তাই অংশীজনদের সঙ্গে আলাপ করে এ বিষয়ে সংশোধনী আনা হবে। বিচারক যদি মনে করেন, শুধু চিকিৎসা সনদের ভিত্তিতে মামলার তদন্ত ও বিচারকাজ পরিচালনা সম্ভব, তাহলে তিনি সে রকম ব্যবস্থা নিতে পারবেন। আসিফ নজরুল বলেন, মাগুরায় আট বছরের শিশু ধর্ষণের মামলার তদন্ত ও বিচারে যাতে বিন্দুমাত্র কালক্ষেপণ না হয়, সে ব্যাপারে আইন মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট যত সরকারি দপ্তর আছে, তারা সর্বোচ্চ সজাগ থাকবে।
এ সময় তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম বলেন, গত সাত মাসে দেশে মব জাস্টিসসহ অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিকারীরা কঠোর নজরদারির মধ্যে রয়েছেন। যখন যার বিরুদ্ধে তথ্য-প্রমাণ মিলবে তখনই তাকে গ্রেপ্তার করা হবে।
এ সময় মিথ্যা সংবাদ প্রচার নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণেরও হুঁশিয়ারি দেন তিনি। তথ্য উপদেষ্টা বলেন, মিথ্যা সংবাদ প্রচার প্রতিরোধে শিগগিরই অংশীজনদের সঙ্গে বৈঠক করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ছাড়া মব জাস্টিস পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে, থানা ঘেরাও কর্মসূচি হলে, ডাকাতি হলে তাৎক্ষণিকভাবে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জড়িতরা যে দল-মত ও ধর্মেরই হোক তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।