বাংলাদেশের পরিবারগুলোতে নারীর গুরুত্ব বাড়ছে। অর্থাৎ নারীপ্রধান পরিবারের সংখ্যা ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) পরিচালিত ২০০৪, ২০১১ ও ২০২৩ সালের আর্থসামাজিক ও জনমিতিক জরিপের তথ্যানুয়ায়ী, গত প্রায় দুই দশকে নারীপ্রধান পরিবারের হার বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।
সূত্র বলছেন, মূলত বাড়ির পুরুষদের বিদেশে ও অভ্যন্তরীণ অভিবাসনের কারণে এ সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। পরিবারে পুরুষ না থাকা, অসুস্থতা, অন্য কারণে পুরুষের কাজে যুক্ত না থাকা বা একা যে নারীরা থাকেন তারা পরিবারের প্রধান হিসেবে সংসারের হাল ধরছেন। কিছু ক্ষেত্রে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর পরিবারগুলোর মাতৃপ্রধান হওয়ার রীতিও নারী পরিবারপ্রধানের হার বাড়াতে ভূমিকা রাখছে। প্রসঙ্গত, দেশে ২০০১ সালের জনশুমারির পর ২০০৪ সালে আর্থসামাজিক ও জনমিতিক জরিপ হয়; যা প্রকাশ হয় ২০০৮ সালে। এ জরিপ অনুসারে দেশে পুরুষপ্রধান পরিবারের হার ছিল প্রায় ৯২ শতাংশ। নারীপ্রধান পরিবারের হার ৮ শতাংশ। ২০১১ সালের আর্থসামাজিক ও জনমিতিক জরিপ অনুসারে দেশে পুরুষপ্রধান পরিবারের হার ছিল প্রায় ৯১ শতাংশ। নারীপ্রধান পরিবারের হার ৯ শতাংশ। জনশুমারি ও গৃহগণনা জরিপ ২০২২-এর পর গত বছরের ৫ জুন আর্থসামাজিক ও জনমিতিক জরিপ ২০২৩ প্রকাশিত হয়। জরিপ অনুসারে দেশে পুরুষপ্রধান পরিবারের হার প্রায় ৮৫ শতাংশ। আর নারীপ্রধান পরিবারের হার ১৫ শতাংশ। গ্রামে নারীপ্রধান পরিবারের হার ১৩ শতাংশ। শহরে এ হার প্রায় ১৫ শতাংশ। বিশেষজ্ঞরা জানান, এখন অনেক পুরুষ বিদেশে যাচ্ছেন। কাজের জন্য প্রবাসে গিয়ে তারা দীর্ঘ সময় সেখানে অবস্থান করছেন। ফলে এসব পুরুষের স্ত্রীরা তখন পরিবারের দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া কর্মজীবী নারীরা অর্থনৈতিক স্বাধীনতা অর্জন করায় পরিবার পরিচালনায় তাদের সক্ষমতাও বৃদ্ধি পেয়েছে। সংসারের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো এখন নারীরাই নিচ্ছেন। চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার আফ্রিকাপ্রবাসী রুহুল কুদ্দুসের স্ত্রী জ্যোৎস্না বেগম। স্বামী দুই যুগের বেশি প্রবাসে থাকেন। কুদ্দুস-জ্যোৎস্না দম্পতির দুই সন্তান কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েন। এ পরিবারের সব গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত জ্যোৎস্না একাই নেন।