রাজধানীর শাহজাদপুরে হোটেল সৌদিয়া আবাসিকে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। ষষ্ঠ তলা ওই ভবনের দ্বিতীয় তলায় গোল্ডেন টিউলিপ বিউটি লাউঞ্জ নামক পারলারে আগুন লাগে। এ ঘটনায় চারজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। আহত হয়েছেন কয়েকজন। গতকাল দুপুর সোয়া ১২টার দিকে আগুন লাগে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে এসে চারটি ইউনিটের সহযোগিতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
ফায়ার সার্ভিস বলছে, নিহত চারজনের লাশ ভবনটির ষষ্ঠ তলায় পাওয়া গেছে। তারা সবাই পুরুষ। বাথরুমের ভিতরে একটি এবং সিঁড়ির গোড়ায় তিনটি লাশ পাওয়া গেছে। সিঁড়ির দরজা তালাবদ্ধ ছিল। ফায়ার সার্ভিস ধারণা করছে, আগুন থেকে বাঁচার জন্য তারা ছাদে ওঠার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু ছাদের দরজায় তালা থাকার কারণে তারা যেতে পারেননি। ফলে সেখানেই তারা মারা গেছেন। সরেজমিন দেখা গেছে, গুলশান থানার শাহজাদপুরের বীরউত্তম রফিকুল ইসলাম এভিনিউয়ের ক-৮৪/ডি নম্বরে মজুমদার ভিলা নামে ষষ্ঠ তলা ভবনটি অবস্থিত। বাড়িটির মালিক জহিরুল ইসলাম মজুমদার। তিনি বিদেশে থাকেন। তার ভাই তানভীর ইমলাম মজুমদার বাড়িটি দেখাশোনা করেন। তিনি এই বাড়ির ভাড়া ওঠাতেন। তানভীরের স্ত্রী ভবনটির দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত বিউটি পার্লারের মালিক।
স্থানীয়রা বলছেন, আগুন লাগার পরপরই বিউটি পার্লার থেকে তানভীরের স্ত্রীসহ কয়েকজন নিচে নেমে আসেন। এর একটু পরই নিচে নেমে আসেন হোটেলটির ম্যানেজার ও কর্মচারীরা। তারা এসে বলতে থাকেন আগুন লেগেছে। দ্রুত ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হয়। অল্প সময়ের মধ্যে ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে আসে এবং দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ভবনের তৃতীয় তলা থেকে পাশের ভবনের দোতলায় তিন-চারজন লাফিয়ে পড়ে। তারা সবাই কমবেশি আহত হন।
ফায়ার সার্ভিসের ঢাকা জোনের সহকারী পরিচালক কাজী নজমুজ্জামান বলেন, হোটেল সৌদিয়া আবাসিক ভবনে আগুন লাগার পর অতিরিক্ত ধোঁয়ার কারণে ঘটনাস্থলে চারজনের মৃত্যু হয়। আগুন লাগার ১০ মিনিটের মধ্যে আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছাই। এসে দেখলাম আগুন লাগা ভবনটি ছয়তলা। নিচতলা হার্ডওয়্যারের দোকান, দ্বিতীয়তলায় বিউটি পার্লারের দোকান, তৃতীয়তলা থেকে ছয়তলা পর্যন্ত আবাসিক হোটেল। দুই তলায় প্রচণ্ড আগুন এবং ধোঁয়া ছিল। ঘটনাস্থলে পৌঁছে মোট চারটি ফায়ার সার্ভিসের ইউনিট কাজ করে। প্রায় ৩০ মিনিটের মধ্যে আমরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হই।
প্রচণ্ড ধোঁয়া বের হতে না পেরে ওপরে ধোঁয়া উঠে যায়। ভবনটির চিলেকোঠায় তিনজনের লাশ পাওয়া যায় এবং একজনকে বাথরুম থেকে উদ্ধার করা হয়। ছাদে যাওয়ার জন্য চিলেকোঠার দরজা বন্ধ ছিল। অর্থাৎ প্রচণ্ড ধোঁয়ার কারণে আবাসিক হোটেলের ভিতরে যারা ছিল তারা বাঁচার জন্য ওপরের দিকে উঠে যায়। ওপরে উঠতে গিয়ে তারা দেখতে পায় ছাদের দরজা বন্ধ আছে। এর পর তারা আর সেখান থেকে বের হতে পারেননি। এ জন্য ধোঁয়ার কারণে চারজনের মৃত্যু হয়। চারজনকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। চারজনের লাশ ছাড়া দুজনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। ভবনটি নিয়ম মেনে তৈরি করা হয়েছে কি না এবং পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল কি না, জানতে চাইলে সহকারী পরিচালক কাজী নজমুজ্জামান বলেন, রাজউকের নিয়ম অনুযায়ী বিল্ডিংটি তৈরি করা হয়নি। ভবনটিতে কোনো ফায়ার সেফটি প্ল্যান ছিল না এবং অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল না। সিঁড়িগুলো ছিল সরু। সিঁড়ির পাশে যে জানালা ছিল সেগুলো কাচ দিয়ে বন্ধ করা ছিল। কাচ দিয়ে বন্ধ না থাকলে ধোঁয়া বের হয়ে আসতে পারত। আগুন লাগার কারণ এখই বলা যাচ্ছে না। তদন্ত করে আগুনের প্রকৃত কারণ জানা যাবে। গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহমুদুর রহমান বলেন, অগ্নিকাণ্ডে নিহত চারটি লাশের শরীরে কোনো পোড়ার ক্ষত নেই। সম্ভবত ধোঁয়ার কারণে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে তারা মারা গেছেন। এদের মধ্যে একজনের পরিচয় পাওয়া গেছে তার নাম শনিদুল ইসলাম মিরন (৬০)। তার গ্রামের বাড়ি পিরোজপুরের ভান্ডারিয়ায়। তার ছেলেকে সৌদি আরবে পাঠানোর জন্য তিনি ঢাকায় এসে ওই হোটেলে উঠেছিলেন। এছাড়া, রাতে ট্রাভেল এজেন্সি ব্যবসায়ী ইশরাফুল আলম সজিবের (৪০) মরদেহ শনাক্ত করা হয়েছে। তিনি নদ্দা কালাচাঁদপুর এলাকায় পরিবারসহ থাকতেন।