সংবাদপত্র শিল্পে শুল্ক ও করনীতি সংস্কারের দাবি জানিয়েছে নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব)। সংগঠনটির নেতারা বলেছেন, বিশ্বায়ন ও ডিজিটাল মিডিয়ার যুগে সংবাদপত্র রুগ্ণ শিল্পে পরিণত হয়েছে। শুল্ক, ভ্যাট ও করপোরেট ট্যাক্স এ শিল্পের বিকাশে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
গতকাল আগারগাঁওয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সম্মেলন কক্ষে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রাক-বাজেট আলোচনায় সংগঠনটির নেতারা এসব কথা বলেন। প্রাক-বাজেট আলোচনায় নোয়াবের সভাপতি একে আজাদ সংগঠনের সুপারিশ তুলে ধরেন। আলোচনায় নোয়াবের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ছাড়াও এনবিআরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় সংবাদপত্র শিল্পে বিদ্যমান অগ্রিম আয়কর (এআইটি) ও অগ্রিম কর বা অগ্রিম ভ্যাট (এটি) কমানোর আশ্বাস দেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান। তিনি বলেন, ‘ট্যাক্স জিডিপি ও ট্যাক্স রেট বাড়াতে সচেতনতামূলক প্রচার করছে গণমাধ্যমগুলো। গণমাধ্যম আরও ভূমিকা রাখবে। আপনারা না বললেও আমরা এআইটি ও এটি কমানোর আশ্বাস দিচ্ছি।’
নোয়াবের প্রস্তাবে আগামী বাজেটে ভ্যাট ১৫ শতাংশের জায়গায় পাঁচ শতাংশ, অগ্রিম আয়কর (এআইটি) পাঁচ শতাংশ ও অগ্রিম কর (এটি) পাঁচ শতাংশ থেকে কমিয়ে ন্যূনতম এক শতাংশ করা এবং সংবাদপত্র শিল্পকে সেবামূলক শিল্প হিসেবে বিবেচনা করে করপোরেট ট্যাক্স সর্বনিম্ন নির্ধারণ অথবা অবলোপনের দাবি জানানো হয়।
নোয়াব সভাপতি একে আজাদ বলেন, ‘ডলারের ক্রমবর্ধমান বিনিময় হার এ শিল্পকে নতজানু করে ফেলেছে। বিগত কয়েকবছরে সংবাদপত্র শিল্প বিকাশে সরকার আমাদের কোনো প্রস্তাবনা আমলে নেয়নি। এ বছরের বাজেটে আমাদের প্রস্তাবগুলো বিবেচনায় নেওয়া হোক।
সভাপতির বক্তব্যে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ‘সবাইকে খুশি রেখে কিছু করা যায় কিনা আমরা বিবেচনা করব। তবে, রাষ্ট্রের উপকার হবে সে সিদ্ধান্তই আমরা নেব। এতে যদি ব্যক্তির বা এনবিআরেরও ক্ষতি হয়, হোক। সবক্ষেত্রে নৈতিকতা দিয়ে হবে না আইনেরও প্রয়োগ করতে হবে।’