বাংলাদেশের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। কিন্তু আমরা যদি জাতি, ধর্ম, বর্ণ সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধ থাকি, তাহলে কোনো অপপ্রচার চালিয়ে আমাদের পিছিয়ে রাখা যাবে না। স্নেহ, শ্রদ্ধা, ভাতৃত্ব ও সম্প্রীতির বন্ধনে ঐক্যবদ্ধ হতে পারলে আমাদের মধ্যে কোনো হানাহানি, হিংসা-বিদ্বেষ থাকবে না। গতকাল রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে দি হাঙ্গার প্রজেক্ট আয়োজিত ‘সম্প্রীতি সংলাপে’ বক্তারা এসব কথা বলেন।
বাংলাদেশে সম্প্রীতির সুদীর্ঘ ঐতিহ্য বিস্তৃত করতে নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ‘এজেন্ট অব চেঞ্জ: এ বাংলাদেশ ফ্রিডম অফ রিজিয়ন অর বিলিফ লিডারশিপ ইনিশিয়েটিভ’ -কর্মসূচি পরিচালনা করছে ইউকেএইড ও দি হাঙ্গার প্রজেক্ট। দেশের আটটি জেলায় ধর্ম ও বিশ্বাসের স্বাধীনতা এবং সামাজিক সম্প্রীতি সুরক্ষায় বিভিন্ন কর্মসূচি পরিচালনা করছে সংস্থা দুটি। এর অংশ হিসেবে গতকাল ‘সম্প্রীতি সংলাপ’ এর আয়োজন করা হয়। সংলাপে নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের প্রধান ও সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, আমরা বর্তমানে রাষ্ট্র মেরামতের চেষ্টা করছি। যে নতুন রাষ্ট্র বিনির্মাণের স্বপ্ন নিয়ে বিগত জুলাই-আগস্টে সংঘটিত গণঅভ্যুত্থানে আমাদের ছাত্র-জনতা নিজেদের প্রাণ বিলিয়ে দিয়েছিল। আমরা এখন নতুন বাংলাদেশের দ্বিতীয় পর্বে প্রবেশ করেছি। এ পর্বে প্রয়োজনীয় সংস্কার করে আমাদের রাজনৈতিক ও নির্বাচনী অঙ্গনকে পরিচ্ছন্ন করে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের মাধ্যমে বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক উত্তরণ ঘটাতে হবে। আমি মনে করি, সংস্কার ও নির্বাচনের মধ্যে বিরোধ নেই। একটার সঙ্গে আরেকটার ওতপ্রোত সম্পর্ক রয়েছে।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের পরিচালক মুহাম্মদ রফিক-উল ইসলাম বলেন, প্রত্যেক ধর্মের মূল বাণী হল সম্প্রীতি, শান্তি ও ভালোবাসা। আমাদের শিল্প-সাহিত্যেও সাম্য ও সম্প্রীতির কথা বলা হয়েছে। ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ ও তরুণরা সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় একটি বড় ভূমিকা পালন করতে পারেন। তবে সবার আগে আমাদের নিজেদের মধ্যে পরিবর্তন আনতে হবে। বাংলাদেশ বুড্ডিস্ট ফেডারেশনের রিলিজিয়াস সেক্রেটারি স্বরূপানন্দ ভিক্ষু বলেন, পারিবারিকভাবে বিশেষ করে শিশু-কিশোর মনে সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দিতে হবে। সম্প্রীতির বার্তা সমাজে ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন। তবে সবার আগে আমাদের মন ও চিত্তকে উন্নত করতে হবে। জেসাস কল চার্চ অব বাংলাদেশের চেয়ারম্যান রেভারেন্ড ডেভিড বৈদ্য বলেন, সুসম্পর্ক আমাদের পরিবারের, সমাজের ও রাষ্ট্রের ভিত্তি। স্নেহ, শ্রদ্ধা, ভাতৃত্ব ও সম্প্রীতির বন্ধনে ঐক্যবদ্ধ হতে পারলে আমাদের মধ্যে কোনো হানাহানি, হিংসা-বিদ্বেষ থাকবে না। বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু সমাজ সংস্কার সমিতির যুগ্ম সম্পাদক বিমল চন্দ্র চক্রবর্ত্তী বলেন, সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য আন্তঃধর্মীয় সভা আয়োজন করা যেতে পারে। আমি মনে করি, ধর্মীয় সভায় নিজ নিজ ধর্মের মাহাত্ম তুলে ধরা উচিত, ধর্মবিদ্বেষ ছড়ানো উচিত নয়। আহমদিয়া মুসলিম জামাতের এক্সটারনাল অ্যাফেয়ার্সের ডিরেক্টর আহমেদ তাবসির চৌধুরী বলেন, সাম্প্রতিককালে অসহিষ্ণুতার কারণে আমাদের মধ্যে বিভেদ বাড়ছে। সংলাপ হতে পারে এই বিদ্বেষ কমানোর একটি বড় উপায়। সবার প্রতি ভালোবাসা, কারো প্রতি বিদ্বেষ নয়- এই বার্তা সমাজে ছড়িয়ে দিতে হবে। দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশ-এর সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার শশাঙ্ক বরণ রায়ের সঞ্চালনায় সংলাপে আরও বক্তব্য রাখেন দি হাঙ্গার প্রজেক্টের ইন্টেরিম কান্ট্রি ডিরেক্টর প্রশান্ত ত্রিপুরা, এজন্টেস অফ চেঞ্জ প্রজেক্টের অপারেশন্স ডিরেক্টর এবং চার্চ অফ ইংল্যান্ডের পলিসি অ্যাডভাইজার ড. চার্লস রীড, কমনওয়েলথ এন্ড ডেভেলপমেন্ট অফিসের সোশ্যাল ডেভেলেপমেন্ট অ্যাডভাইজার তাহেরা জাবীন, এজেন্টস অফ চেঞ্জ: এ বাংলাদেশ ফ্রিডম অফ রিলিজিওন অর বিলিফ লিডারশিপ ইনিশিয়েটিভ প্রোগ্রামের অ্যাডভাইজার ড. শাহনাজ করিম প্রমুখ। এ ছাড়া আটটি জেলা থেকে আগত বিভিন্ন ধর্মীয় নেতৃত্ব, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি এবং তরুণদের প্রতিনিধিরা আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন।