মেধা-মনন, চিন্তাচেতনা ও কর্মপরিকল্পনায় দেশপ্রেমিক রাজনীতিবিদরা ভবিষ্যতে দেশ পরিচালনা করবে। তাদের দায়বদ্ধতা থাকবে দেশ ও জনগণের কাছে। যাদের উদ্দেশ্য হবে জনবান্ধব আইন প্রণয়ন করা। নামের আগে ‘গডফাদার’ খেতাব আছে এমন কাউকে জাতীয় সংসদের প্রার্থী হিসেবে চাই না।
গতকাল রাজধানীর একটি হোটেলে ‘আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কেমন প্রার্থী চাই’ শীর্ষক সংলাপে বক্তারা এসব কথা বলেন।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ‘স্কুল অব লিডারশিপ’-এর আয়োজনে সংলাপে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, গবেষক, সুশীল সমাজ, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন পেশাজীবী উপস্থিত ছিলেন।
সংস্থাটির ভাইস প্রেসিডেন্ট মেজর (অব.) রুহুল অমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও নির্বাহী পরিচালক জামিল আহমেদের সঞ্চালনায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান। সংলাপে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান বলেন, “গণতন্ত্রে বিশ্বাস করলে জনগণের ওপরই আস্থা রাখতে হবে। তবে এক-এগারোর বিরাজনীতিকরণ এখন আবার দেখতে পাচ্ছি। যদি এমনটা ঘটে তাহলে আমরা আজকে এখানে ‘কেমন প্রার্থী চাই’ শীর্ষক যে আলোচনা করছি তা ভেস্তে যাবে।” তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারকে তাদের মূল দায়িত্ব বুঝতে হবে। বাংলাদেশের মানুষ কী চায়, সেটা তাদের বুঝতে হবে। এই সরকার স্বৈরাচারী পদ্ধতি থেকে বাংলাদেশকে একটি গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে রূপান্তরিত করবে। সংস্কার একটি চলমান প্রক্রিয়া। সংস্কার শেষে নির্বাচন, এটা যুক্তিসংগত কোনো কথা নয়। চলমান সংস্কারের মধ্যেই নির্বাচন দিতে হবে। বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য সেলিমা রহমান বলেন, এ মুহূর্তে নির্বাচন দরকার। রাজনৈতিক দলগুলো এবার প্রার্থী নির্বাচনে যত্নশীল হবে। দলবাজি করে কর্মী নিয়ে রাস্তায় হাঁটলে চলবে না, কাঠামোগত পরিবর্তন দরকার। মন জয় করেই নেতা হতে হবে। এ ছাড়া সত্যিকারের নারী ক্ষমতায়নের জন্য সরাসরি নির্বাচনে কত শতাংশ নারী প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়া হবে, তা পরিষ্কার করতে হবে রাজনৈতিক দলগুলোকে। জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, শিক্ষাগত যোগ্যতার পাশাপাশি নীতিনৈতিকতা ও সামাজিক উন্নয়নে যাদের সম্পৃক্ততা রয়েছে তাদেরই প্রার্থী হিসেবে প্রাধান্য দিতে হবে। বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরী বলেন, ‘সংসদ হলো সরকারের আইনপ্রণয়নকারী সংস্থা। আমরা দেখেছি, সংসদ সদস্যরা আইন প্রণয়নে ভূমিকা রাখতে পারেন না। তারা সংসদে উপস্থিতও থাকেন না। নিজেদের দায়িত্ব পালন না করে সংসদ সদস্যরা গায়ের জোরে ক্রমাগতভাবে প্রশাসনিক এবং নির্বাহী ক্ষমতাগুলো দখল করেছেন। এটা মোটেই তাদের কাজ না।’ গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘সামাজিক-অর্থনৈতিক ব্যবস্থা না বদলালে দলের কাঠামো পরিবর্তন হবে না। এই কাঠামো নিয়ে আমি আশাবাদী নই।’ জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের (এনডিএম) চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ বলেন, গণতন্ত্র পছন্দ করলে জনগণ যাকে পছন্দ করবে তার নেতৃত্বই মেনে নিতে হবে।