জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ টি এম আজহারুল ইসলামকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার দাবি জানিয়েছে দলটি। গতকাল এক বিবৃতিতে দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান এ দাবি করেন।
বিবৃতিতে জামায়াত আমির বলেন, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার জামায়াতকে নেতৃত্বশূন্য করার লক্ষ্যে জামায়াতের নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে মিথ্যা, সাজানো ও ষড়যন্ত্রমূলক মামলা দায়ের করে। ফাঁসির দন্ড হাসিলের মাধ্যমে তৎকালীন জামায়াত আমির ও সেক্রেটারি জেনারেলসহ পাঁচজন শীর্ষ নেতাকে ফাঁসি দিয়ে হত্যা করে। সাবেক আমির ও নায়েবে আমিরসহ ছয়জন শীর্ষ নেতাকে বিচারের নামে প্রহসন করে কারাগারে আটক রাখে। আটক থাকা অবস্থায় তাঁরা মৃত্যুবরণ করেন। আওয়ামী সরকারের ষড়যন্ত্র ও চক্রান্তের নির্মম শিকার হন তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল এ টি এম আজহারুল ইসলাম। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার ২০১১ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর জামায়াতের দলীয় কার্যালয় থেকে বের হয়ে বাসায় ফেরার পথে এ টি এম আজহারুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে। রিমান্ডে নিয়ে তাঁর ওপর চরম শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়। তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে ন্যূনতম চিকিৎসাসেবাটুকুও দেওয়া হয়নি। উচ্চ আদালতের নির্দেশে ২০১২ সালে তিনি জামিনে মুক্তিলাভ করার পর নিজ বাসায় অবস্থানকালে পুলিশ তাঁর বাড়ি ঘেরাও করে রাখে।
তাঁর বাড়ির চতুর্দিকে সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানো হয়। পরিবার, আত্মীয়স্বজন ও দলীয় সহকর্মীদের তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে দেওয়া হয়নি। আওয়ামী সরকার এ টি এম আজহারুল ইসলামকে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করে তাঁকে বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায়। জামায়াতের শীর্ষ এই নেতা বলেন, আওয়ামী সরকার দলীয় লোকদের দ্বারা তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা ও সাজানো সাক্ষ্য প্রদান করে। মিথ্যা সাক্ষ্যের ভিত্তিতে এ টি এম আজহারুল ইসলামকে মৃত্যুদন্ডে দন্ডিত করা হয়। শফিকুর রহমান বলেন, ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ থেকে পালিয়ে যায়। দেশ স্বৈরাচারের কবল থেকে মুক্তিলাভ করে। রাজনৈতিক মিথ্যা মামলায় ফ্যাসিস্ট সরকারের গ্রেপ্তারকৃত অনেক নেতা-কর্মী মুক্তিলাভ করেন। রাষ্ট্রপতির আদেশে অনেককে তৎক্ষণাৎ মুক্তি দেওয়া হয়। দেশবাসী আশা করেছিল, চরম জুলুম-নির্যাতনের শিকার এ টি এম আজহারুল ইসলাম স্বৈরাচারমুক্ত বাংলাদেশে মুক্তিলাভ করবেন। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা গ্রহণের ছয় মাস আট দিন অতিবাহিত হওয়া সত্ত্বেও এ টি এম আজহারুল ইসলাম মুক্তিলাভ করেননি। জামায়াত স্বৈরশাসনামলে জুলুম এবং নির্যাতনের শিকার হয়েছে। দেশ স্বৈরশাসনমুক্ত হয়েছে কিন্তু জামায়াতে ইসলামী এখনো বৈষম্যের শিকার হচ্ছে।