ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণদের রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ ঘটবে ২৪ ফেব্রুয়ারি। ওই দিনকে লক্ষ্য করে চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছেন জাতীয় নাগরিক কমিটির নেতারা। উপদেষ্টা নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে আহ্বায়ক কমিটি দিয়ে শুরু হবে নতুন রাজনৈতিক দলের পথচলা। এজন্য ২৪ ফেব্রুয়ারির আগেই অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পদ থেকে পদত্যাগ করবেন নাহিদ ইসলাম। তবে, অন্য দুই তরুণ উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও মাহফুজ আলমের বিষয়ে নীতিনির্ধারণী ফোরামে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। জাতীয় নাগরিক কমিটির ৬৮ জন সদস্য থাকবেন আহ্বায়ক কমিটির নির্বাহী সদস্য হিসেবে। অন্যান্য কেন্দ্রীয় পদগুলোতে কারা কারা থাকবেন তা নিয়ে এখনো আলাপ-আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন তরুণরা। জাতীয় নাগরিক কমিটি সূত্রে জানা যায়, আহ্বায়ক কমিটির নির্বাহী সদস্যদের নিয়ে গতকাল রাত থেকে রাজধানীর বাংলামোটরে নাগরিক কমিটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতিমূলক সভা শুরু হয়েছে। দলের কাঠামো, গঠনতন্ত্র, নাম ও প্রতীক নির্ধারণ নিয়ে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। আহ্বায়ক হিসেবে অন্তর্বর্তী সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম অনেকটাই চূড়ান্ত। গতকাল গণমাধ্যমকে নাহিদ ইসলাম জানান, দলের কার্যক্রমে যোগ দিতে তিনিসহ উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করা শিক্ষার্থী প্রতিনিধিরা পদত্যাগের ঘোষণা দিতে পারেন কয়েকদিনের মধ্যেই। সূত্র জানায়, দলের সদস্যসচিব নিয়ে চলছে আলোচনা। সেক্ষেত্রে এগিয়ে আছেন জাতীয় নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও সদস্যসচিব আখতার হোসেন। তাদের দুজন থেকে একজন সদস্যসচিবের দায়িত্ব নেবেন। এ ছাড়া নাগরিক কমিটির মুখপাত্র সামান্তা শারমিন, যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ, মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আবদুল্লাহ, সদস্যসচিব আরিফ সোহেল, মুখপাত্র উমামা ফাতেমা ও মুখ্য সংগঠক আবদুল হান্নান মাসউদ থাকবেন গুরুত্বপূর্ণ পদে। চমক হিসেবে কয়েকটি দলের তরুণ নেতাদের দেখা যেতে পারে নতুন দলে। কেউ কেউ দল ঘোষণার সময় আর কেউ বা দলে যোগ দেবেন সুবিধাজনক সময়ে। ইসলামী ছাত্রশিবির ও বাম ছাত্রনেতাদের কয়েকজনের যোগদানের বিষয়টি এরই মধ্যে চূড়ান্ত হয়েছে।
নাগরিক কমিটি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রথম সারির নেতারা রাজনৈতিক দলে যোগ দিলে শূন্যস্থান পূরণে দুই সংগঠনেই আসবে নতুন নেতৃত্ব। দ্বিতীয় সারির নেতারা উঠে আসবেন অভ্যুত্থানের এই দুই শক্তির মূল দায়িত্বে।
এদিকে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের ছাত্রনেতারা নতুন ছাত্র সংগঠন গঠন করবেন বলে জানিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক কমিটির একাধিক শীর্ষ নেতা। নতুন রাজনৈতিক দল আত্মপ্রকাশের দিন একই সঙ্গে আত্মপ্রকাশ ঘটতে পারে এই ছাত্র সংগঠনেরও। দলীয় লেজুড়বৃত্তির বাইরে অবস্থান করে শিক্ষার্থীদের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গঠনমূলক কার্যক্রম চালাবে ছাত্র সংগঠনের নেতারা। অংশ নেবে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনে। কমিটিগুলোর স্থায়িত্ব হবে ছয় মাস থেকে এক বছর মেয়াদি। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এবং নতুন ছাত্র সংগঠনের মধ্যে পার্থক্য কী হবে জানতে চাইলে জাতীয় নাগরিক কমিটির সহমুখপাত্র ও মিডিয়া সেল সম্পাদক মুশফিক উস সালেহীন গতকাল বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন শুধু জুলাই-আগস্টের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করে তা সমুন্নত রাখার প্রয়াস চালাবে। অন্যদিকে ছাত্র সংগঠনটি বর্তমানে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের নিয়ে গঠিত হবে।