জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, নির্বাচন হতে হবে। তবে যেনতেন মার্কা নির্বাচন আমরা চাই না। নির্বাচনের মতো নির্বাচন চাই। সুষ্ঠু নির্বাচন চাই। যে নির্বাচনে পেশিশক্তি আর কালো টাকার খেলা চলবে না। এটা সহজে আসবে না। আমরা বুঝতে পারছি। এর জন্য বড় একটা লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত থাকুন।
গত শুক্রবার বিকালে সাঠির পাড়া কালী কুমার ইনস্টিটিউশন স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নরসিংদী জেলা শাখা আয়োজিত সভাপতিত্ব করেন নরসিংদী জেলা আমির মাওলানা মো. মোছলেহুদ্দীন। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন, আ ফ ম আবদুস সাত্তার, নারায়ণগঞ্জ মাহানগর আমির আবদুল জব্বার প্রমুখ।
জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, মাঠ প্রশাসনে যারা আছেন- যারা অতীতে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে পারেন নাই, দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়েছেন। যাদের হাত থেকে জনগণের কেনা পয়সার বুলেট জনগণের বুকে বিঁধেছে। আমরা আগামী নির্বাচনে তাদের কোনো দায়িত্বে দেখতে চাই না। কথা এক দম সাফ। এখানে কোনো ধানাইপানাই নেই। তিনি প্রশাসনের যে পর্যায়ে থাকুক না কেন? তিনি আরও বলেন, প্রশাসনের সৎ ও দেশপ্রেমিক যারা আছেন- তাদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে দেশবাসী কাজ করবে ইনশা আল্লাহ। জুলাই শহীদদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে জামায়াতের আপসহীন লড়াই চলবে। তিনি বলেন, জুলায়-আগস্টে ২৪ এই জাতিকে একটা ধাক্কা দেওয়া হয়েছে। আরেকটি ধাক্কা এই জাতিকে দিতে হবে। অধিকার প্রতিষ্ঠা করার জন্য ভোটার তালিকা সংশোধন করতে হবে। ভুয়া ভোটার বাদ দিতে হবে। মৃত ভোটারদের চিহ্নিত করে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দিতে হবে। যে সব লোক ভোটার হয়েছেন, কিন্তু নাম তালিকাভুক্ত হয়নি, সে সব ভোটারদের তালিকাভুক্ত করতে হবে। এ সময় ৫ আগস্টের পর নরসিংদীতে এখন আর কেউ চাঁদাবাজি করে কি না জানতে চান। তিনি বলেন, পানের দোকানদারকে বলা হয় খাজনা দিয়ে ব্যবসা করবা। যে অসহায় মানুষ ভিক্ষার বাটি হাতে নিয়ে বসে, তারা বলে এখানে ভিক্ষা করতে হলে খাজনা দিতে হবে। এভাবে ঘাটে ঘাটে চাঁদা, জনে জনে চাঁদা। অতিষ্ঠ সাধারণ মানুষ। আপনি একটি বাড়ি বানাবেন-দেখবেন- মানবরূপী দানবরা এসে হাজির হয়ে বলবেন, চাচা বা বড় ভাই বাড়ি বানান অসুবিধা নেই। আমাদের খেয়াল রাখবেন। আমাদের সন্তানেরা কি এই জন্য জীবন দিয়েছিল? তিনি বলেন, তোমরা যারা শহীদ হয়ে জাতিকে ঋণী করেছ- আমরা আল্লাহর নামে শপথ করে তোমাদের কথা দিচ্ছি, তোমাদের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ার আমাদের আপসহীন লড়াই চলবে। এই সমাজ থেকে চাঁদাবাজি দুর্নীতি দুঃশাসন যতক্ষণ পর্যন্ত বিদাই না নেবে। ততক্ষণ আমাদের লড়াই চলবে।
গণহত্যাকারীদের বিচার নিশ্চিত করতে হবে : গতকাল এক বিবৃতিতে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারকে সব গণহত্যাকারী এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবার বিচার নিশ্চিত করতে হবে। খুনি এবং খুনিদের মাস্টারমাইন্ডদের তথ্য ও পরিচয় এই তদন্ত প্রতিবেদনের মাধ্যমে বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরেছে জাতিসংঘ। জাতিসংঘের রিপোর্ট গণহত্যার দলিল হয়ে থাকবে।
জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনকে অভিনন্দন জানিয়ে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি আরও বলেন, ‘জনগণ মনে করে, গণহত্যার অপরাধে অপরাধী হিসেবে আওয়ামী লীগের এ দেশে রাজনীতি করার কোনো অধিকার নেই। আওয়ামী লীগের নিষিদ্ধের দাবির বিষয়টিও অন্তর্বর্তী সরকারকে বিবেচনায় নেওয়া উচিত বলে আমরা মনে করি।’ ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জাতিসংঘের তদন্ত প্রতিবেদনের মাধ্যমে বিশ্ববাসীর নিকট স্পষ্ট হয়েছে যে খুনি শেখ হাসিনার নির্দেশেই দেশে সব হত্যাকা- সংঘটিত ও মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে। খুনিদের মাস্টারমাইন্ড ও তার দোসরদের মাধ্যমেই দেশের নাগরিকদের ওপর অকথ্য জুলুম-নির্যাতন, গুম এবং চরম বীভৎস ও লোমহর্ষক গণহত্যা চালানো হয়েছে। লাশ স্তূপ করে পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে। বাংলাদেশের গণতন্ত্র এবং গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক সব প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। আয়নাঘর বানিয়ে দেশের মানুষকে গুম ও পাশবিক নির্যাতন করা হয়েছে।