সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অবিলম্বে যোগদান দাবিতে গতকাল দিনভর বিক্ষোভ করেছেন নিয়োগ বাতিল হওয়া চাকরিপ্রার্থীরা। গতকাল সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এবং দুপুরের পর থেকে শাহবাগে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন তাঁরা। কর্মসূচি পালনকালে যান চলাচলে ছিল ধীরগতি। এতে শাহবাগ, ফার্মগেট, বাংলা মোটর, পল্টন, প্রেস ক্লাব এলাকায় দিনভর যানজটের ভোগান্তিতে পড়ে নগরবাসী। বিকাল সাড়ে চারটার পর শাহবাগ থানা-পুলিশ আন্দোলনকারী কয়েকজনকে আটক এবং বাকিদের লাঠিচার্জ করে সরিয়ে দিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। পরে শাহবাগ ছেড়ে জাতীয় জাদুঘরের সামনে বিক্ষোভ করেন চাকরিপ্রার্থী আন্দোলনকারীরা।
বিকাল ৫টার পর জাদুঘরের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন আন্দোলনকারীদের সমন্বয়ক পিয়াস তালুকদার। তিনি বলেন, মঙ্গলবারের (আজ) মধ্যে চাকরি প্রার্থীদের দাবি মেনে নিয়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগদান করানোর ঘোষণা দিতে হবে। বর্তমান সরকারের আমলে বৈষম্যমূলক কোনো রায় মেনে নেওয়া হবে না। আন্দোলনকারী নারী সদস্যদের পুলিশ হেনস্তা করেছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, অবিলম্বে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের চাকরি থেকে বরখাস্ত করতে হবে।
তিনি বলেন, পুলিশের বেধড়ক পিটুনিতে কমপক্ষে ১৫ জন আহত হয়েছেন। আর পুলিশ প্রায় ১২ জনকে শাহবাগ থানায় আটক করেছে। আটক ব্যক্তিদের অবিলম্বে ছেড়ে দেওয়ার দাবি জানান তিনি।
গতকাল দুপুরে শাহবাগ মোড়ে গিয়ে দেখা গেছে, আন্দোলনকারীরা জাদুঘরের সামনের শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নিয়ে স্লোগান দিচ্ছেন। এ সময় পুলিশ ধাওয়া দিলে আন্দোলনরত পুরুষ সদস্যরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। তবে ঠায় দাঁড়িয়ে ছিলেন চাকরিপ্রার্থী নারী সদস্যরা। পুলিশের বাধার মুখে একপর্যায়ে তাঁরা শাহবাগ মোড়ে বসে পড়েন। এরপর পুলিশ নিয়ে আসে জলকামান। চাকরিপ্রার্থী নারী সদস্যদের ওপর দফায় দফায় জলকামান নিক্ষেপ করে পুলিশ। কিন্তু শাহবাগ মোড় না ছেড়ে বরং অনেক নারী শুয়ে পড়েন ঘটনাস্থলে। জলকামানের পানির তোড়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন কয়েকজন আন্দোলনকারী। এ সময় অনেক নারী চাকরিপ্রার্থীকে কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা গেছে।
আন্দোলনরত মুহাইমিনুল আমিন পিয়াল বলেন, ‘দাবি আদায়ে আমাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির মধ্যে পুলিশ দফায় দফায় লাঠিচার্জ করেছে। আমাদের ওপর টিয়ারশেল নিক্ষেপ করা হয়েছে। আমাদের কমপক্ষে ১৫ জন আন্দোলনকারী গুরুতর আহত হয়েছেন।’ দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত শাহবাগের জাতীয় জাদুঘরের সামনে তাদের কর্মসূচি চলমান থাকবে বলে জানান তিনি।
পিয়াল বলেন, ‘আমাদের ন্যায্য দাবির আন্দোলনে সরকার কোনো গুরুত্ব দিচ্ছে না। জুলাই বিপ্লবের আগে এ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছিল। আগের নিয়ম মেনে দুই ধাপে শিক্ষকরা চাকরিতে যোগদান করেছেন। তাহলে একই বিজ্ঞপ্তির আওতায় আবেদন করে কেন আমাদের নিয়োগ বাতিল করা হবে? এমন অবিচার মেনে নেওয়া হবে না।’