বাজারে ভোজ্য তেলের কোনো ঘাটতি নেই। যেটি হয়েছে তা কৃত্রিম এবং প্রকৃত তথ্যের ঘাটতি থেকে তৈরি হয়েছে। কাস্টমসের তথ্য অনুসারে, গত দুই মাসে ভোজ্য তেলের আমদানি প্রায় ৩৫ শতাংশ বেড়েছে। একই সঙ্গে এলসিও বেড়েছে। উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানও আগের তুলনায় উৎপাদন বাড়িয়েছেন। গতকাল বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনে আসন্ন রমজানে ভোজ্য তেলের বাজারে সার্বিক সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে বিশেষ সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।
এ সময় বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যান (সচিব) ড. মইনুল খানের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন বণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব (রুটিন দায়িত্ব) আবদুর রহিম খান। এতে অংশ নেন দেশের শীর্ষ ভোজ্য তেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা। সভায় বলা হয়, আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্য তেলের মূল্য স্থিতিশীল। আন্তর্জাতিক বাজার ও আমদানি পরিস্থিতি স্থানীয় বাজারের সম্পর্কিত। তাই ভোক্তার অধিকার রক্ষায় বাজার মনিটরিং করার কথা জানানো হয়।
সভায় ব্যবসায়ীরা জানান, রমজান উপলক্ষে পাইপলাইনে বেশ কিছু ভোজ্য তেলভর্তি জাহাজ চট্টগ্রামের বন্দরে নোঙর করার অপেক্ষায় আছে। এগুলো অচিরেই স্থানীয় সরবরাহের সঙ্গে যুক্ত হবে। পাইপলাইনে থাকা ভোজ্য তেলের পরিমাণ প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন। সার্র্বিকভাবে, ভোজ্য তেলের সরবরাহ পর্যাপ্ত রয়েছে।
ব্যবসায়ীরা আরও জানান, মাঠপর্যায়ে কেউ কেউ অতিরিক্ত মজুত করতে পারে। আবার কেউ কেউ অধিক লাভের আশায় বোতল কেটে খোলা তেলে পরিণত করে তা বিক্রি করতে পারে। অন্যদিকে পার্শ্ববর্তী দেশে মূল্য অধিক হওয়ায় অনানুষ্ঠানিক বাণিজ্য হওয়ার আশঙ্কার কথাও জানান তারা। সভায় সিটি গ্রুপের প্রতিনিধি (উপদেষ্টা) অমিতাব চক্রবর্তী জানান, সিটি গ্রুপ জানুয়ারি মাসে মোট তেল সরবরাহ করেছে প্রায় ৫০ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন। এর মধ্যে ২২ হাজার ২৪২ হাজার টন বোতলজাতকৃত। অন্যদিকে ২০২৪ একই মাসে বোতলে তারা সরবরাহ করেন ১৪ হাজার ২৬২ টন।
মেঘনা গ্রুপের প্রতিনিধি জিএম তসলিম শাহরিয়ার জানান, চলতি জানুয়ারিতে মোট ৪৭ হাজার ৬৬৮ হাজার টন সরবরাহ করা হয়। এর মধ্যে ১৫ হাজার মেট্রিক টন বোতলজাত। পূর্ববর্তী বছরে একই সময়ে মোট সরবরাহ ছিল ২৫ হাজার মেট্রিক টনের মধ্যে ১২ হাজার টন বোতলজাত।
টিকে গ্রুপের পরিচালক শফিউল আতাহার তসলিম জানান, চলতি বছরের জানুয়ারিতে মোট ১১ হাজার ৮১০ মেট্রিক টন বোতলজাত সয়াবিন তেল সরবরাহ করেছেন, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ৯ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন। অন্যান্য উৎপাদনকারীরা জানান যে, তারাও পূর্বের মাসগুলোর তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে সরবরাহ বৃদ্ধি করেছেন। সবার তথ্য অনুযায়ী দেখা যায়, জানুয়ারি মাসে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহের প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ২৫ শতাংশ বেশি।