প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, অপপ্রচারের মাধ্যমে ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে জঙ্গিদের লিডার প্রমাণে ভারতীয় মিডিয়া মিলিয়ন ডলার খরচ করছে। তারা সারা পৃথিবীকে বোঝাতে চাচ্ছে, বাংলাদেশে যা হয়েছে তা আসলে গণ অভ্যুত্থান নয়। এটা বড় রকমের চক্রান্ত। গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত ‘দ্রোহের গ্রাফিতি : ২৪-এর গণ অভ্যুত্থান’ শীর্ষক বইয়ের প্রকাশনা উৎসবে তিনি এসব কথা বলেন।
শফিকুল আলম বলেন, আওয়ামী লীগ এবং পতিত স্বৈরাচার, চোরতন্ত্র ও গুমের জননী চাইছেন বাংলাদেশের ন্যারেটিভকে (বয়ান) চ্যালেঞ্জ করতে। তারা বলছেন, ৩ হাজার পুলিশ মারা গেছে, তাদের ওয়েবসাইটে অধ্যাপক ইউনূসকে জঙ্গিদের নেতা হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। এটা খুবই পরিকল্পিত অপপ্রচার। এর সঙ্গে ভারতীয় মিডিয়াও জড়িত। এর পেছনে হাসিনার অলিগার্কেরা মিলিয়ন ডলার খরচ করছে।
তিনি বলেন, শেখ হাসিনা ও তাঁর সহযোগীরা ইতিহাসকে উল্টে দিতে চান। তারা জুলাই বিপ্লবের উল্টো বয়ান তৈরিতে ব্যস্ত। তাই এখন আমাদের মূল কাজ হলো জুলাই বিপ্লবের প্রতিটি ঘটনাকে লিপিবদ্ধ করা। গবেষণার মাধ্যমে ১৫ বছরের ভয়াবহতাকে তুলে ধরা। প্রতিটি দেয়ালে সে যে অন্যায়-অবিচার করেছে, সেটা আমরা লিখে রাখব, যাতে বাংলাদেশে পতিত স্বৈরাচার এবং তার সাঙ্গপাঙ্গরা ফিরে আসতে না পারে। এটা আমাদের করতে হবে।
শেখ হাসিনার শাসনামলের নিপীড়নের কথা উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব বলেন, তারা একজন প্রধান বিচারপতিকে নির্যাতন করে বিদেশে পাঠিয়ে দিয়েছেন। একজন প্রধান বিচারপতির যদি এই অবস্থা হয়, তাহলে বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থা কতটুকু স্বাধীন ছিল সেটা বুঝতে কারোর কষ্ট হওয়ার কথা নয়। শেখ হাসিনা ও তাঁর লোকেরা বাংলাদেশ থেকে ২৩৪ বিলিয়ন ডলার পাচার করেছে। সাড়ে ৩ হাজার মানুষকে গুম করা হয়েছে। জুলাই-আগস্টে ২ হাজার মানুষকে খুন করা হয়েছে। শেখ হাসিনার সময়ে শাপলা চত্বর হত্যাকান্ড হয়েছে, মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর রায়ের পর কী ভয়ানক হত্যাকান্ড হয়েছে।