ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটে বাংলা ভাষা শিখতে এসে বাংলাদেশিদের আচরণে মুগ্ধ জাপানি তরুণী সাকি মিজুহারা। ভাষা শেখার পেছনে বাংলাদেশিদের বন্ধুসুলভ আচরণ অনুপ্রেরণা হয়ে কাজ করেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। গতকাল বাংলাদেশ প্রতিদিনে এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ভাষা শিখতে এসে নিজের অনুভূতি জানান তিনি। সাকি মিজুহারা বলেন, আমি গত বছর বাংলাদেশে এসেছিলাম। বাংলাদেশে নানা ধরনের মানুষ রয়েছে। যেহেতু আমি একজন বিদেশি, তাই অনেকেই আমার সঙ্গে কথা বলেন এবং আমার প্রতি সদয় আচরণ করেন। যেমন আমি মেট্রোতে ভ্রমণ করার সময়, লোকেরা আমার জন্য আসন ছেড়ে দেন। এমন দয়ালু মনোভাব জাপানে দেখতে পাওয়া বিরল। এ ছাড়া যখন আমি রেস্তোরাঁয় খেতে যাই তখন লোকেরা আমার সঙ্গে কথা বলেন। বাঙালিরা খুবই বন্ধুসুলভ। বাংলা ভাষা শেখার পেছনে এটি আমার জন্য অনেক বড় অনুপ্রেরণা হয়ে কাজ করছে।
তিনি বলেন, আমার বাড়ির লোকেরা খুব লাজুক, তাই তাদের সঙ্গে কথা বলা কঠিন। তাই যখন আমি বাঙালিদের সঙ্গে থাকি তখন আমার মনে হয় আমি একটি উষ্ণ, প্রাণোচ্ছল পরিবারে সঙ্গে আছি। তা ছাড়া বাংলাদেশে জীবনযাপনের খরচ জাপানের তুলনায় কম। জাপানে বসবাস করা কঠিন, কারণ দাম বেশি। যেহেতু আমি একজন ছাত্রী, তাই আমি বাংলাদেশে মিতব্যয়ী জীবনযাপন করছি, কিন্তু জাপানে থাকার চেয়ে এখানে জীবনযাপনের খরচ কম মনে হয় আমার।
ভাষা শেখার যাত্রা অব্যাহত রাখব জানিয়ে তিনি বলেন, আমি এখনো সাবলীলভাবে বাংলা বলতে ও লিখতে পারি না, তবে যতদিন না আয়ত্তে আসছে আমি চেষ্টা চালিয়ে যাব। আমি বাংলা সাহিত্যের বইগুলো ভালোভাবে পড়তে চাই। বাংলা গান, নাটক, ছবি আমার ভালো লাগে। ভাষা শেখার মাধ্যমে আমি আরও স্পষ্টভাবে সেগুলো বুঝতে চাই। আশাকরি আমি প্রতিদিন এই যাত্রায় এক ধাপ এগিয়ে যাব। আমার বাংলাদেশকে অনেক আপন মনে হয়। এ দেশকে আরও আপন করতে আমি এই ভাষা শেখার যাত্রা অব্যাহত রাখতে চাই।