ভারতে বসে শেখ হাসিনার উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়া বন্ধ করার পদক্ষেপ নিতে ঢাকায় নিযুক্ত দেশটির ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার পবন বাধেকে তলব করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে সমাজমাধ্যমসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফরমে শেখ হাসিনা মিথ্যা ও বানোয়াট বিবৃতি দেওয়ায় ভারত সরকারের কাছে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে ঢাকা। গতকাল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, বক্তব্য দেওয়া থেকে শেখ হাসিনাকে বিরত রাখতে বারবারই ভারত সরকারকে অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ। কিন্তু এখনো আমরা এর জবাব পাইনি। আবারও তাদের আমরা গত কয়েক দিনের পরিস্থিতির জন্য প্রোটেস্ট নোট দিয়েছি। হাইকমিশনার এখন নেই, তাই ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনারকে ডেকে এ ধরনের উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধ করার জন্য অনুরোধ করেছি। ভারত জানিয়েছে, শেখ হাসিনা বিদেশি প্ল্যাটফরম ব্যবহার করে বক্তব্য দিচ্ছেন। ভারতের কোনো প্ল্যাটফরম ব্যবহার করে তিনি বক্তব্য দিচ্ছেন না।
তিনি বলেন, ভারত থেকে শেখ হাসিনার বক্তব্য-বিবৃতির কারণে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়িসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটছে। হাসিনার বক্তব্য ছাত্র-জনতা ভালোভাবে নেয়নি। তিনি অবিরাম উসকানি দিয়ে যাচ্ছেন। তারই ফলে এ ঘটনাটা ঘটছে বলে আমাদের বিশ্বাস। যদি তিনি এ ধরনের কর্মকা থেকে বিরত থাকতেন তাহলে এ রকম ঘটনা হয়তো ঘটত না। তৌহিদ হোসেন বলেন, ৩২ নম্বরে ভাঙচুরের ঘটনা আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় নেতিবাচকভাবে আসবে তা আমরা জানি। সরকারের পদক্ষেপের বিষয়টি হচ্ছে, সেখানে সেনাবাহিনী উপস্থিত হয়েছিল এবং তারা নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছে, যাতে বাড়াবাড়ি না হয়। যখন শুরু হয়ে গেছে, তখন সম্পূর্ণ থামাতে পারেনি। তবে এটি যাতে ছড়িয়ে না পড়ে বা আর যাতে ক্ষতি না হয়, সেটি তারা নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছে।
সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, আদানির চুক্তি একটি খারাপ চুক্তি, এটা অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই। এ চুক্তিতে যারা দরকষাকষি করেছিলেন, তারা বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষা করতে পারেননি। সে হিসেবে বলেছি, এটা খারাপ চুক্তি।