বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, জনগণের ভোটে দায়িত্ব পেলে যুক্তরাজ্যের এনএইচএস বা জাতীয় সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবার আলোকে সবার জন্য সর্বোচ্চ স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তিতে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। গতকাল গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে সংস্কার কমিশনে দেওয়া বিএনপির প্রস্তাব নিয়ে ডাকা সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘সবার জন্য স্বাস্থ্য’ এ নীতির ভিত্তিতে উন্নত কল্যাণকামী রাষ্ট্রের মতো সবার জন্য বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হবে। তিনি বলেন, দারিদ্র্যমোচন না হওয়া পর্যন্ত সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর জন্য সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী আরও সম্প্রসারণ করা হবে। জাতীয় বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ জিডিপির ৫ শতাংশের কম হবে না। সংক্রামক ও অসংক্রামক রোগের চিকিৎসা, শিক্ষা এবং গবেষণা সুবিধা নিশ্চিত করা হবে।
বিগত আওয়ামী লীগ শাসনকালে স্বাস্থ্য খাতে আর্থিক দুর্নীতি, অনিয়ম তুলে ধরে বিএনপির সাবেক এই স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, পদোন্নতি, বদলি, প্রশাসনিক দুর্বৃত্তায়নের মাধ্যমে রাষ্ট্রের আর্থিক ক্ষতিসাধনের সঙ্গে স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা দলীয়করণের আবরণে আচ্ছাদিত করা হয়েছে। এ অবস্থায় প্রয়োজন সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দুর্নীতির নিরপেক্ষ অনুসন্ধান ও দোষীদের উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করা। স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদি প্রস্তাব তুলে ধরে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, স্বল্পমেয়াদি প্রস্তাব এক থেকে তিন বছরের মধ্যে বাস্তবায়ন করা হবে। এর মধ্যে আছে- প্রতিরোধের মাধ্যমে সুরক্ষিত স্বাস্থ্য একটি কার্যকর পরিকল্পনা-প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার ওপর জোর দিয়ে ইউনিয়ন সাব-সেন্টার উন্নয়ন ও পর্যাপ্তসংখ্যক ‘গ্রামীণ স্বাস্থ্যসহকারী’ নিয়োগ।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেবার গুণগত মান উন্নয়ন এবং কার্যকর প্রাথমিক রেফারেল সেন্টার হিসেবে রূপান্তর, প্রয়োজনীয় বিশেষায়িত সেবা নিশ্চিত করা, পুষ্টিবিদ ও পরিকল্পিত পরিবার ও জনসংখ্যার ব্যবস্থাপনা।
বিদ্যমান দ্বিতীয় (জেলা ও সদর হাসপাতাল) এবং তৃতীয় স্তরের বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবা শক্তিশালীকরণ ও সঠিক রেফারেল সিস্টেম বাস্তবায়ন। কিডনি, ক্যান্সার, হৃদরোগ, স্নায়ুরোগ চিকিৎসাসহ ২৪ ঘণ্টা হেল্পলাইন, জরুরি সেবা, দুর্ঘটনা-পরবর্তী সেবা, দ্রুত রোগী স্থানান্তর ব্যবস্থাপনা।
সমাজের প্রতিনিধিত্বকারী ব্যক্তিবর্গের সমন্বয়ে চিকিৎসক ও রোগীর সম্পর্ক উন্নয়নে কার্যকর ব্যবস্থাপনা, স্বচ্ছতা ও মিডিয়ার যথাযথ এবং ইতিবাচক ব্যবহার। মধ্যমেয়াদি প্রস্তাব যা এক থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে বাস্তবায়ন করার কথা জানিয়েছে দলটি। সেখানে স্বাস্থ্য কার্ড প্রবর্তন ও স্বাস্থ্য কার্ডের মাধ্যমে সুবিধা প্রবর্তনের কথা জানানো হয়। আর এক থেকে ১০ বছরের মধ্যে বাস্তবায়নে দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তাবে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় সক্ষম স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হবে। এ সময় স্বাস্থ্যসেবায় মানসম্পন্ন মেডিকেল শিক্ষা ও স্নাতকোত্তর শিক্ষা ও দেশের জন্য উপযোগী চিকিৎসা গবেষণা, চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা, ডায়াগনস্টিক রিপোর্টের বিশ্বাসযোগ্যতা, ওষুধের মূল্য, ইউনানি, কবিরাজি, হোমিওপ্যাথিসহ ঐতিহ্যগত সনাতন চিকিৎসা পদ্ধতির প্রভাব বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান তিনি।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ ডা. ফরহাদ আলী ও বিএনপি মিডিয়া সেলের সমন্বয়ক মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল।