সাফজয়ী নারী জাতীয় দলের ফুটবলারদের আন্দোলন চলছে। তাঁরা জানিয়ে দিয়েছেন, পিটার বাটলার থাকলে প্রশিক্ষণ ও কোনো কর্মকান্ডে অংশ নেবেন না। এ দাবি মানা না হলে গণ অবসরের ঘোষণা দিতে বাধ্য হবেন। বাংলাদেশের ফুটবলে অনেক কা-ই ঘটেছে। কখনো তা সমাধান হয়েছে, কখনো ফুটবলার এমনকি কোচও শাস্তি পেয়েছেন। কিন্তু কোচ বর্জন করে গণ অবসরের হুমকি মেয়েরাই প্রথম জানালেন। সাবিনা খাতুন, সানজিদা, মাসুরা পারভীনরা একথা চিঠির মাধ্যমে বাফুফের সভাপতি তাবিথ আউয়ালকে জানিয়েছেন। নারী ফুটবলারদের ঘটনা নিয়ে তোলপাড় ক্রীড়াঙ্গনে। এখানে ফুটবলারদের পক্ষ-বিপক্ষ দুটোই কাজ করছে। তাবিথ আউয়াল দেশের বাইরে থাকলেও বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখছেন। ঘটনার পেছনে আসল রহস্য কী তা বের করতে সাত সদস্যের বিশেষ কমিটিও গঠন করেছেন। যার নেতৃত্বে রয়েছেন ফেডারেশনের সিনিয়র সহসভাপতি ইমরুল হাসান।
কমিটির সদস্যরা সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে আন্দোলনরত খেলোয়াড়দের সঙ্গে আলাদাভাবে আলোচনা করেছেন। যখন দেখছে ঘটনা কিছুই না। কোচের ওপর রাগ ও অভিমানে ঘটনার সূত্রপাত। তখন সমঝোতার মাধ্যমে সমাধানের ইতি টানতে চান। অথচ সাফজয়ী ফুটবলার মাতসুশিমা সুমাইয়া গতকাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যা তুলে ধরেছেন, তা সত্যিই ভয়ংকর। এতে অন্য নারী ফুটবলাররাও আতঙ্কে থাকবেন।
জাপানি বংশোদ্ভূত সুমাইয়া তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে উল্লেখ করেছেন, গত কয়েকদিন ধরেই তিনি একাধিকবার ধর্ষণ ও হত্যার হুমকি পাচ্ছেন। এতে তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। ফেসবুক স্ট্যাটাসের শুরুতেই সালাম জানিয়ে সুমাইয়া লিখেছেন, ‘আমার নাম মাতসুশিমা সুমাইয়া। আমি বাংলাদেশ নারী জাতীয় দলের একজন ফুটবলার। বাংলাদেশের হয়ে ২০২৪ সাফ সেতাটা আমার কাছে অম্ল মধুর ছিল।’ এরপরই তিনি হুমকির কথা তুলে ধরেছেন। তবে সুমাইয়াকে কারা হুমকি দিচ্ছেন, কীভাবে দিচ্ছেন, তা ফেসবুক স্ট্যাটাসে কিছুই লিখেননি বা জানাননি। তিনি এটাও লিখেছেন, ‘জানি না এই মানসিক বিপর্যয় অবস্থা কাটিয়ে উঠতে আমার কতদিন সময় লাগবে।’
প্রশ্ন হচ্ছে, সুমাইয়া জাতীয় দলে খেললেও তেমন পরিচিত মুখ নন। তাহলে তাকে কেন হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে? এ ঘটনার পেছনে বড় কারণ হতে পারে বাফুফের সভাপতির কাছে পাঠানো ইংরেজিতে লেখা চিঠি। সত্যি বলতে কী, এমন সুন্দর ইংরেজী ভাষায় চিঠি লেখা কোনো খেলোয়াড়ের পক্ষে সম্ভব নয় কমিটির ধারণা ছিল। ভাষা ছাড়াও চিঠিতে বেশকিছু টেকনিক্যাল দিক তুলে ধরা হয়। গুঞ্জন ওঠে, এ চিঠি লিখেছেন বাফুফের সাবেক টেকনিক্যাল ডিরেক্টর পল স্মলি। তিনি নিজেই নাকি কোচ হতে মেয়েদের আন্দোলনে ইন্ধন জোগাচ্ছেন। চিঠির কথা কমিটির সদস্যরা খেলোয়াড়দের কাছে জানতে চেয়েছেন, চিঠিটি কার লেখা। সবাই বলেছেন, চিঠি সুমাইয়াই লিখেছেন। ও ভালো ইংরেজি বলতে ও লিখতে পারে। সুমাইয়াও স্বীকার করেছেন, চিঠি তিনিই লিখেছেন। তাহলে কী চিঠির কথা কেন ফাঁস করলেন, এজন্যই তাকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে?
বিশেষ কমিটির এক সদস্য জানান, ‘এ ধরনের হুমকি দেওয়া হলে সত্যিই আতঙ্কের। বাফুফে অবশ্যই তা গুরুত্ব সহকারে দেখবে। একজন খেলোয়াড়ের নিরাপত্তা দেওয়াটাও দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। কে বা কারা হুমকি দিয়েছেন ডিজিটাল যুগে ঠিকই বের করা সম্ভব।’