বাংলাদেশের অর্থনীতি অনেকেই শ্রীলঙ্কার সঙ্গে তুলনা করেন। শ্রীলঙ্কা আর বাংলাদেশ এক নয়। শ্রীলঙ্কার অর্থনীতি বাংলাদেশের মতো এত খারাপ অবস্থায় যায়নি। বাংলাদেশের মতো হলে তো শ্রীলঙ্কাকে আর খুঁজেই পেতাম না বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। গতকাল সচিবালয়ে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে সংক্ষিপ্ত ব্রিফিংয়ে এমন মন্তব্য করেন।
তাহলে কি বাংলাদেশের অবস্থা শ্রীলঙ্কার থেকেও খারাপ বলতে চাচ্ছেন এমন প্রশ্নের উত্তরে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, যখন আমরা দায়িত্ব নিলাম তখন ব্যাংক খাতের যে অবস্থা, তখন ৬০ ব্যাংকের মধ্যে মাত্র ১২টা ব্যাংক ভালো অবস্থায় ছিল। আর বাকিগুলো খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে। এ রকম কোনো দেশে হয়েছে কি? ওয়ান থার্ড ব্যাংক কাজ করে না।
তিনি বলেন, টকশোতে শ্রীলঙ্কার উদাহরণ দেয়, মূল্যস্ফীতি কমে গিয়েছিল, এতটুক একটা দেশ। তাদের রাজনৈতিকভাবে যেই আসে তাদের পলিসি হলো যেই সরকারই আসুক তাদের একটা চুক্তি থাকে তাকে সাপোর্ট করতে হবে। আর আমাদের অনেক চ্যালেঞ্জ। আমাদের পছন্দ করেন না। চলে যান এই সেই বলছেন। এসবের মধ্যে থেকে চেষ্টা করছি কিছুটা সহনীয় রাখতে।
রমজান মাস উপলক্ষে আমার আর কোনো অ্যাকশন নেওয়ার নেই। রমজান মাসে দেখা যাবে ফল আমদানির কী পরিস্থিতি। আমরা খেজুর আমদানি করছি, বহু আগেই খেজুর আমদানিতে শুল্ক তুলে দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যানের পদত্যাগের দাবির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সেগুলো তারা বলুক, তারা একেকজন নানা কথা বলবে, যার যার অবস্থান থেকে। যারা লোকসান দেবে তাদের প্রতি সমবেদনা থাকবে। আর এটা তো নতুন চেয়ারম্যানের কান্ড না। আগে যারা ছিল তারা এ কান্ড করেছে।
তিনি বলেন, আমাদের মূল্যস্ফীতির দিকে মূল মনোযোগ আছে। যতটুকু সম্ভব যত তাড়াতাড়ি মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারি। এখন আমরা যে উদ্যোগটা নেব সেটার প্রভাব বাজারে দেখতে পারবেন। আশা করছি, জুন মাসের দিকে মূল্যস্ফীতিতে একটা আইডল ৬/৭ শতাংশে যেতে পারি, তাহলে আমাদের জন্য বেটার হয়।