জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য বরাদ্দকৃত পোষ্য কোটা পুরোপুরি বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। গতকাল বেলা পৌনে ২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা এলাকা থেকে এ বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়। মিছিলটি ছাত্রদের ১০টি আবাসিক হল ঘুরে নতুন প্রশাসনিক ভবনের সামনে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে প্রশাসনিক ভবনের প্রধান ফটক ও পেছনের ফটকে তালা ঝুলিয়ে দিয়ে অবস্থান নেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। এতে আটকা পড়েন প্রশাসনিক ভবনে অবস্থানরত শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
এর আগে ৩ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ১২টার দিকে পোষ্য কোটা বাতিলের দাবিতে অনশনরত ৮ শিক্ষার্থীকে ‘যৌক্তিক সংস্কার’-এর আশ্বাস দিয়ে অনশন ভাঙান উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান। সেই আশ্বাসের ভিত্তিতে অনশন কর্মসূচি প্রত্যাহার করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন জাবি শাখা। তবে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের এ সিদ্ধান্তের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ ও সমালোচনা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তাঁরা বলছেন, পোষ্য কোটা মানেই অযোগ্যদের সুযোগ করে দিয়ে যোগ্যদের প্রতি বৈষম্য সৃষ্টি করা। গণ অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো বৈষম্যমূলক কোটাপদ্ধতি থাকতে পারে না বলে মত শিক্ষার্থীদের। তাই তাঁরা পোষ্য কোটা পুরোপুরি বাতিল করার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন বলে জানিয়েছেন ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের ৫৩ ব্যাচের শিক্ষার্থী আশিকুর রহমান। এদিকে পোষ্য কোটাসংক্রান্ত সব শর্ত বাতিল ও পুনরায় পোষ্য ভর্তি বহালের দাবিতে ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে লাগাতার কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ। তারা ওই দিন বেলা ১১টার দিকে আগের মতো পোষ্য কোটা বহালের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নেয়।
সেখানে পোষ্য কোটা বাতিলসংক্রান্ত পোস্টার ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগ আনেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় মোহাম্মদ আলী চিশতি নামে এক শিক্ষার্থী প্রতিবাদ জানাতে এলে তাঁর সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ ও ধাক্কা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে কর্মচারীদের বিরুদ্ধে। অন্যদিকে ওই দিন (মঙ্গলবার) বিকাল সোয়া ৫টার দিকে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত প্রশাসনিক ভবনের বাইরে শিক্ষার্থীরা অবস্থান কর্মসূচি পালন করছিলেন। এ সময় উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান পোষ্য কোটা বাতিলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানানোর জন্য আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের কাছে চার ঘণ্টা সময় চেয়েছেন। উপাচার্য জানিয়েছেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় আইন ১৯৭৩ অনুযায়ী অংশীজনদের সঙ্গে পরামর্শ করে তিনি পোষ্য কোটা বাতিলের বিষয় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবেন। সে সময় শিক্ষার্থীরা উপাচার্যকে চার ঘণ্টা সময় বেঁধে দিয়ে হলে ফিরে যান।