বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, যদি নির্বাচন প্রক্রিয়া দেরি হয়, সংস্কার প্রস্তাবের আলাপ-আলোচনা দীর্ঘ থেকে
দীর্ঘতর হয়, তাহলে বিতাড়িত স্বৈরাচার সুযোগ পেয়ে যাবে। সংস্কারের আলোচনা যত বেশি দীর্ঘায়িত হবে দেশ তত বেশি সংকটে পড়বে। গতকাল ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি আয়োজিত এক কর্মশালায় দেশের বর্তমান অবস্থা তুলে ধরে তিনি এই শঙ্কা প্রকাশ করেন। শ্যামপুরের কদমতলী বালুর মাঠে ‘রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের ৩১ দফা ও জনসম্পৃক্তি’ শীর্ষক এই প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন তারেক রহমান।
তারেক রহমান বলেন, যদি নির্বাচন প্রক্রিয়া দেরি হয়, যদি সংস্কার-সংস্কার করে আমরা সংস্কারের আলোচনা দীর্ঘতর করতে থাকি তাহলে যে স্বৈরাচারকে বাংলাদেশের মানুষ দলমত-শ্রেণি-পেশানির্বিশেষে এক হয়ে এ দেশ থেকে বিতাড়িত করেছে, সেই স্বৈরাচার সুযোগ পেয়ে যাবে আবার দেশের মানুষের কাঁধে চেপে বসার। কাজেই যে সম্মানিত বিজ্ঞ ব্যক্তিরা সংস্কারের কথা বলছেন, আপনাদের সবার কাছে রাজনৈতিক দলের অবস্থান থেকে আহ্বান জানিয়ে বলতে চাই, সংস্কার নিয়ে আলাপ দয়া করে দীর্ঘায়িত করবেন না। কারণ আপনারা সংস্কারের আলাপ যত দীর্ঘায়িত করবেন দেশ তত বেশি সংকটের মুখে পড়বে। ষড়যন্ত্রকারীরা ততই ষড়যন্ত্র করার সুযোগ পাবে।
তিনি বলেন, সংস্কারের প্রস্তাবগুলো যদি বাস্তবায়ন করতে হয় তাহলে সবার আগে নির্বাচন প্রয়োজন। নির্বাচনের মাধ্যমে যাদের জনগণ দায়িত্ব দেবে সংস্কারের কাজ তারাই শুরু করবে। নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমেই সংস্কার বাস্তবায়নের কাজ শুরু করতে হবে। কারণ যারা নির্বাচিত হয়ে আসবে তারা জনগণের কাছে ওয়াদাই করবে যে তারা সুযোগ পেলে বাস্তবায়ন করবে এসব সংস্কার। তিনি বলেন, সংস্কার যত দ্রুত বাস্তবায়ন করা যাবে, দেশকে দেশের মানুষকে তত দ্রুত আমরা বিপদ থেকে রক্ষা করতে পারব। সংস্কার বাস্তবায়ন করতে হলে উপায় একটাই, যে সংস্কার প্রস্তাব বিএনপি দিয়েছে, যে সংস্কার প্রস্তাব অন্তর্বর্তী সরকারের কমিশনগুলো তৈরি করে দিয়েছে, যেটাই হোক না কেন এই সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়ন করতে নির্বাচন ছাড়া আর কোনো রাস্তা নাই। একটিই পথ জনগণের নির্বাচন।
তারেক রহমান বলেন, নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের কাছে জবাবদিহি নিশ্চিত করা যায়। এটা সবাইকে অনুধাবন করতে হবে। কোনো কোনো ব্যক্তি বলেন যে নির্বাচন হলেই কী সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে? আমি বলি, সঙ্গে সঙ্গে সব সমস্যার সমাধান হবে না। কিন্তু নির্বাচন হলে নির্বাচনের মাধ্যমে, জনগণের ভোটের মাধ্যমে, জনগণের রায়ের মাধ্যমে যে দল যে ব্যক্তি বা যারা দেশ পরিচালনার সুযোগ পাবে, তখন সমস্যার যে জট, সমস্যার যে গিট্টু সেগুলো আস্তে আস্তে খোলা যাবে।
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক রফিকুল আলম মজনুর সভাপতিত্বে ও সদস্যসচিব তানভীর আহমেদ রবিনের সঞ্চালনায় কর্মশালায় বিএনপির বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদক সালাহ উদ্দিন আহমেদ ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহাদী আমিন বক্তব্য দেন। এতে মহানগর দক্ষিণের অধীন ২৪টি থানার বিএনপিসহ দলের ১১টি অঙ্গসংগঠনের কয়েক হাজার নেতা-কর্মী অংশ নেন।