চলতি বছরের প্রথম দিনে ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ বাতাসে শ্বাস নিয়ে সকালটা শুরু করেছিল ঢাকাবাসী। গতকাল জানুয়ারির শেষ দিনটাও রাজধানীর বাতাস ছিল ‘অস্বাস্থ্যকর’। পুরো মাসে এক ঘণ্টার জন্যও স্বাস্থ্যকর বাতাসে শ্বাস নিতে পারেননি জনবহুল এ নগরের বাসিন্দারা।
বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী আন্তর্জাতিক সংস্থা আইকিউ এয়ারের তথ্যানুযায়ী, জানুয়ারির ৩১ দিনের আট দিন ঢাকার বাতাস ছিল অস্বাস্থ্যকর, ২২ দিন ছিল অতিমাত্রায় অস্বাস্থ্যকর ও এক দিন (২২ জানুয়ারি) ছিল দুর্যোগপূর্ণ। ২২ জানুয়ারি বায়ুমান সূচকে ঢাকার স্কোর ছিল ৩১০। প্রতি ঘনমিটার বাতাসে ক্ষতিকর অতিসূক্ষ্ম বস্তুকণা (পিএম ২.৫) ছিল ২৩০.২ মাইক্রোগ্রাম, যা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বেঁধে দেওয়া স্বাভাবিক বায়ুমানের চেয়ে ৪৬ গুণ বেশি দূষিত। গতকাল ছুটির দিন হওয়ায় সড়কে যানবাহনের সংখ্যা ছিল কম। বন্ধ ছিল অফিস-আদালত ও অনেক শিল্পকারখানা। তবু গতকাল সকাল ৯টার দিকে বায়ুদূষণে বিশ্বের ১২২ শহরের মধ্যে ঢাকার অবস্থান ছিল চতুর্থ। আইকিউ এয়ারের মানসূচকে ঢাকার স্কোর ছিল ১৮৭। বায়ুর এ মানকে ‘অস্বাস্থ্যকর’ ধরা হয়। আগের দিন বৃহস্পতিবার একই সময়ে বায়ুর মান ছিল ২৬৭।
বায়ুম লীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্র (ক্যাপস)-এর বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রতি বছর শীত আসতেই বাড়তে থাকে বায়ুদূষণ। জানুয়ারিতে সর্বোচ্চ দূষণের কবলে পড়ে রাজধানী। ২০২২ সাল ছাড়া প্রতি বছরই সর্বোচ্চ বায়ুদূষণ ঘটেছে জানুয়ারিতে। নয় বছরে জানুয়ারির গড় বায়ুমান সূচক ২৫০, নভেম্বরে ১৭৭, ডিসেম্বরে ২১৮ এবং ফেব্রুয়ারিতে ২২১।
সরেজমিন দেখা গেছে, রাজধানীর সব গাছের পাতা ঢেকে গেছে ধুলার আস্তরে। বাসিন্দাদের অভিযোগ, দরজা-জানালা বন্ধ রাখার পরও আসবাবপত্রে ধুলা জমছে। ঘরের বাইরে বেরোলে এক দিনেই কাপড় ময়লা হয়ে যাচ্ছে। ঘরে ঘরে শিশুদের অ্যালার্জিজনিত কাশি। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী বলেন, ‘এক বায়ুদূষণের কারণে সংক্রামক-অসংক্রামক দুই ধরনের রোগই বাড়ছে। দূষিত বায়ুর কারণে হাঁচি, কাশি, সর্দি, শ্বাসের টান বা হাঁপানি, অ্যালার্জিক কফ, অ্যালার্জিক এজমা, নিউমোনিয়া, যক্ষ্মা, ফুসফুস ক্যান্সারের মতো রোগগুলো বাড়ছে। অন্যদিকে বায়ুতে ভাসমান ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র বস্তুকণা শ্বাসতন্ত্র দিয়ে রক্তস্রোতে মিশে লিভার, কিডনিসহ বিপাক প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত অঙ্গপ্রত্যঙ্গের ক্ষতি করছে।’