জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, হঠকারিতা ও ফ্যাসিবাদ কারও জন্য কল্যাণকর নয়। তিনি বলেন, দেশে আর কোনো ফ্যাসিবাদ যেন চেপে বসতে না পারে, সে বিষয়ে জামায়াত কাজ করবে। গতকাল রাজধানীর মগবাজারের আল ফালাহ মিলনায়তনে সাবেক এমপি, জামায়াতের কেন্দ্রীয় মহিলা বিভাগের সাবেক সেক্রেটারি হাফেজা আসমা খাতুনের স্মরণসভা ও দোয়া অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জামায়াত আমির বলেন, ‘একটি সময় আপনজনকে বিদায় দিতে পারব না, বিদায় নিতে পারব না, সবার সঙ্গে দোয়াও করতে পারব না- এমন ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছিল। এমন পরিবেশ যেন আর ফিরে না আসে। সেই দুঃস্বপ্নের সময়গুলো থেকে গোটা জাতি যেন শিক্ষা নিতে পারি। এই পথে আর যেন কেউ পা না বাড়ায়।’
জামায়াতের কর্মীরা গত দেড় দশকে বাবা-মায়ের জানাজায় পর্যন্ত শরিক হতে পারেনি বলেও জানান তিনি। বিগত সময়ে জামায়াতে ইসলামীর ঘাড়ে জুলুমের পর্বত চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল। জাতির এ ঘটনা থেকে শিক্ষা নেওয়া উচিত। কেউ যেন একই পথে ভবিষ্যতে পা না বাড়ায়।
এ সময় আসমা খাতুনের বিষয়ে বলেন, আসমা খাতুন আন্তরিক ও নিষ্ঠাবান ছিলেন। তিনি যা বিশ্বাস করেছেন তাই বলেছেন ও করেছেন। তিনি যে যুগে সংগঠনের হাল ধরেছিলেন, সে যুগে তিনিই হাল ধরার মতো ছিলেন। মাত্র দশজনকে নিয়ে কেন্দ্রীয় সংগঠনের কাজ শুরু করেছিলেন তিনি। এখন এই সংখ্যা ৪৩ হাজার। আসমা খাতুনের পরিবার আওয়ামী লীগ আমলে মজলুম ছিল অভিযোগ করে শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘আসমা খাতুনের মৃত্যুর পর তাঁর সন্তানদের দেশে আসার সুযোগ ও পরিস্থিতি ছিল না। তারা মা-বাবাকে দেখার সুযোগ পাননি। এই শহরে থেকেও পরিস্থিতির কারণে আসমা খাতুনের জানাজায় শরিক হতে পারিনি।’ আসমা খাতুনের বড় ছেলে নিয়াজ মাখদুমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল প্রমুখ।