জাতীয় নাগরিক কমিটির মুখপাত্র সামান্তা শারমিন বলেছেন, আওয়ামী লীগ দেশের প্রত্যেকটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে ফ্যাসিস্ট কাঠামোয় পরিণত করেছে। একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান, বাহিনী এবং সংস্থাগুলোর সংস্কার প্রয়োজন। এসব সংস্কার সম্পন্ন না করে নির্বাচন করলে সেই নির্বাচনের ফলাফল জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পাবে না। জুলাই অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণরা ফ্যাসিবাদী কাঠামোর পূর্ণাঙ্গ বিলুপ্তি নিশ্চিত করার পরই নির্বাচন আয়োজনের পক্ষে।
গতকাল বাংলাদেশ প্রতিদিনকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন। সামান্তা শারমিন আরও বলেন, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের পূর্ব শর্ত হিসেবে অন্তর্বর্তী সরকার দুদক ও নির্বাচন কমিশন সংস্কারসহ আরও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার কমিশন গঠন করেছে। স্বাধীনতার ৫৩ বছর পর জনগণের আকাঙ্ক্ষার বাস্তবায়নস্বরূপ আমরা এই কমিশনগুলো দেখতে পাচ্ছি। কমিশনগুলো তাদের প্রতিবেদনও পেশ করেছে। জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের তত্ত্বাবধায়নে রাজনৈতিক দলগুলো এসব প্রতিবেদন পর্যালোচনার জন্য একসঙ্গে বসবে। নির্বাচনের তারিখ নিয়ে তখন দলগুলোর মধ্যে যুক্তি-তর্ক হবে। সবার ঐকমত্যের ভিত্তিতে আমরা যে তারিখটা পাব সেই তারিখটা সবার জন্য মঙ্গলজনক হবে এবং আমরা সেটা মেনে নেব।
তিনি বলেন, সংস্কার পূর্ণাঙ্গ না করে আমরা যদি নির্বাচনের জন্য তাড়াহুড়ো করি তাহলে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। দেখা গেল, তাড়াতাড়ি নির্বাচন করতে গিয়ে সংস্কার কার্যক্রম অপূর্ণাঙ্গ থেকে গেল। সময় স্বল্পতায় নির্বাচন কমিশনের সংস্কার হলো কিন্তু দুদককে সংস্কার করা গেল না। ফলে পুরানো ফ্যাসিস্ট কাঠামোটাই থেকে গেল। এই ফাঁকফোঁকর ব্যবহার করে দুর্নীতিবাজরা নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়ে যাবে এবং জিতেও যেতে পারে। একটি রক্তক্ষয়ী অভ্যুত্থানের পর পুরানো ফ্যাসিবাদী কাঠামো বিদ্যমান রেখে আরেকটি নির্বাচনের দিকে যাওয়াটা হবে জাতির জন্য আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত।
সামান্তা শারমিন বলেন, একটি সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের জন্য শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় থাকতে হবে। অথচ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আমরা এখনো জনমুখী অবস্থানে দেখিনি। জুলাই অভ্যুত্থানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যে প্রশ্নবিদ্ধ অবস্থান নিয়েছিল সেখান থেকে তাদের জনকল্যাণমুখী অবস্থানে নিয়ে আসতে হলে ব্যাপক শুদ্ধিকরণ প্রয়োজন।
তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় এসব কাঠামোগত সংস্কার শেষ করে বাংলাদেশ যখন নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত হবে, আমরা সেই সময়টিতে নির্বাচনের পক্ষে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ক্ষমতার অশান্তিপূর্ণ পালাবদল আমরা বাংলাদেশে আর দেখতে চাই না। ’২৪-এ অভ্যুত্থান হয়েছে, বিপ্লব বাকি রয়েছে। একটি সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও সবার কাছে গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বিপ্লব পূর্ণতা পাবে।