বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, স্বৈরাচার সরকার দেশকে ধ্বংস করে ফেলেছে। পালিয়ে যাওয়ার আগে তারা দেশের প্রতিটি সেক্টর ভেঙে দিয়ে গেছে। তাই এখন দেশের মেরামত কার্যক্রম অত্যন্ত জরুরি।
গতকাল সকাল ১০টায় চুয়াডাঙ্গার শাহেদ গার্ডেনে অনুষ্ঠিত দলীয় কর্মশালায় প্রধান অতিথির ভার্চুয়ালি বক্তৃতায় তিনি এ মন্তব্য করেন। এদিন কুষ্টিয়া, মাগুরা, চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুর জেলায় একযোগে বিএনপির ‘রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতে ৩১ দফা ও জনসম্পৃক্তি’ শীষক এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
চুয়াডাঙ্গার কর্মশালায় জেলা বিএনপির সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবুর সভাপতিত্বে ও সহ-গণশিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক আনিসুর রহমান তালুকদার খোকনের পরিচালনায় কর্মশালায় বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন, কেন্দ্রীয় ত্রাণ ও পুনর্বাসন সম্পাদক অ্যাডভোকেট নেওয়াজ হালিমা আরলী, স্থানীয় সরকারবিষয়ক সম্পাদক শাম্মী আক্তার, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ, চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামান শরীফ, মেহেরপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাবেদ মাসুদ মিল্টন, সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট কামরুল হাসান প্রমুখ।
তারেক রহমান বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ২০১৭ সাল থেকে দেশ সংস্কারের কথা বলেছেন। তাই বিএনপিও গত দুই বছর আগে ৩১ দফা পেশ করে। গত ৫ আগস্ট স্বৈরাচার সরকারের পতন হয়েছে। আমরা জানতাম এ সরকারের পতন হবেই। তাই আগে থেকে আমাদের রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফা দেই। তিনি বলেন, আমরা একত্রে দেশের উন্নয়ন ও জনগণের কল্যাণে কাজ করতে প্রস্তুত। আমাদের চিন্তা সবসময় দেশ এবং দেশের মানুষের প্রতি। দেশের মানুষ বিশ্বাস করে দেশের যে কোনো ভালো বিএনপি করে এবং বিএনপি করে যাবে। বিএনপির এই নেতা বলেন, ১৫ বছরে দেশে দ্বি-রাজনৈতিক পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। যার ফলে নারী-পুরুষ সবাই ফ্যাসিস্টদের অত্যাচারের শিকার হয়েছে। বিএনপি সবসময় গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ অনুসরণ করে জনমানুষের জন্য রাজনীতি করেছে।
মাগুরা প্রতিনিধি জানান, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ভারত বিভিন্ন বাঁধ নির্মাণের ফলে আমাদের প্রধান নদীগুলো শুকিয়ে গেছে। ফলে চাষাবাদে সমস্যা দেখা দিয়েছে। ভারত যে বাঁধ দিচ্ছে সেটি আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এটি উপস্থাপন করতে হবে। বিগত সময়ে আমাদের সরকারের আমলে বিষয়টি জাতিসংঘে উত্থাপিত হয়েছিল। গতকাল বিকালে মাগুরা নোমানী ময়দানের মিলনায়তনে জেলা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের দিনব্যাপী কর্মশালায় ভার্চুয়ালি সংযুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন। এ সময় জেলা বিএনপির এক কর্মশালায় বিএনপির কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লা, কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ সম্পাদক এ বি এম মোশারফ হোসেন, খুলনা বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ ইসলাম অমিত, কেন্দ্রীয় সহকারী প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক রেহানা আক্তার, কেন্দ্রীয় কৃষক দলের যুগ্ম সম্পাদক মাহমুদা হাবিবা, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ফজলুর রহমান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন, কেন্দ্রীয় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলী আহম্মদ, সদস্যসচিব মনোয়ার হোসেন খানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি জানান, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন আমরা যতই সংস্কারের কথা বলি না কেন? সমস্যার সমাধান করতে হবে তাদের দিয়ে, জনগণের কাছে যাদের জবাবদিহিতা থাকবে। আমরা একটি নির্বাচন প্রত্যাশা করছি। যেই নির্বাচনে জনগণ সিদ্ধান্ত নেবে। কে জনগণের দেখভাল করবে। গতকাল রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের ৩১ দফা বিষয়ক বিএনপি নেতা-কর্মীদের প্রশিক্ষণ কর্মশালায় তিনি একথা বলেন। চুয়াডাঙ্গা শহরের সাহেদ গার্ডেনে আয়োজিত দিনব্যাপী এ কর্মশালায় চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুর জেলার ৭ শতাধিক নেতা-কর্মী অংশগ্রহণ করে। তিনি বলেন, আমাদের বহু নেতা-কর্মী গত ১৫ বছরে গুম, খুন, হত্যার শিকার হয়েছেন। প্রায় প্রত্যেক নেতা-কর্মী মিথ্যা বা গায়েবি মামলার শিকার হয়েছেন। মানুষের রাজনৈতিক অধিকার আমাদের প্রতিষ্ঠা করতে হবে। মানুষের বাকস্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এর মাধ্যমেই জনগণের কথা বলা যাবে। জনগণের সমস্যার সমাধান করা যাবে। কুষ্টিয়া প্রতিনিধি জানান, কুষ্টিয়ায় ‘রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের ৩১ দফা ও জনসম্পৃক্তি’ বিভাগীয় প্রশিক্ষণ কর্মশালায় লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, নির্বাচনি ব্যবস্থা যদি ঠিক করতে না পারি তবে দেশের কোনোকিছুরই সমাধান হবে না। ঝড়, তুফান, বন্যা, খরা, বৃষ্টি যাই হোক না কেন, একটি নির্দিষ্ট সময়ে নির্বাচন হতেই হবে। এর কোনো বিকল্প নেই, সেই ব্যবস্থা গড়ে তুলতেই হবে। এই লক্ষ্য পথে কেউ বাধা হয়ে দাঁড়ালে আমরা তাদের প্রতিহত করব। গতকাল সকাল ১০টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ বিষয়ক কমিটির আয়োজনে দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা শুরু হয়। বিকাল সাড়ে চারটার দিকে বক্তব্য রাখেন তারেক রহমান। তাঁর বক্তব্য একই সঙ্গে আরও কয়েকটি জেলায় প্রচারিত হয়। কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কুতুব উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে কর্মশালায় বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ বিষয়ক কমিটির আহ্বায়ক ডা. মওদুদ আলমগীর পাভেল, কেন্দ্রীয় বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির স্থানীয় সরকার বিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন, নির্বাহী কমিটির সদস্য সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক শহিদুল ইসলামসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য রাখেন।