সাতক্ষীরার আশাশুনিতে বিএনপির ইউনিয়ন কমিটির সম্মেলনে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে ১০ জন আহত হয়েছেন। ফলে সম্মেলন প- হয়ে গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় প্রশাসন সম্মেলনস্থলে ১৪৪ ধারা জারি করে। ঘটনার পর এলাকায় পুলিশ ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়।
জানা গেছে, বুধহাটা ইউনিয়ন বিএনপির ত্রিবার্ষিক সম্মেলন আহ্বান করে বিএনপির একটি পক্ষ। সকাল ১০টায় ইউনিয়নের বেউলা সাইক্লোন শেল্টার মাঠে কমিটি নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। এ সময় অপর পক্ষ সেখানে সমাবেশের ঘোষণা দিলে আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী অফিসার সম্মেলনস্থলে ১৪৪ ধারা জারি করে মাইকে ঘোষণা দেন। কিন্তু ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে অপর পক্ষের শতাধিক নেতা-কর্মী সম্মেলনস্থলে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া শুরু হয়। ইটপাটকেল নিক্ষেপ, রড-লাঠি নিয়ে হামলায় উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক পলাশ, যুব দলের সাবেক সহসভাপতি বকুল, ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি শফি, কল্লোল, দিপু, আশিক, শফিকুল ও আছাফুর এবং অপর পক্ষের উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক রবিউল আওয়াল ছোট, যুবদল কৃষিবিষয়ক সম্পাদক রমজান আলী, যুবদল কর্মী আজমিনুরসহ কমপক্ষে ১০ জন আহত হন। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যর্থ হলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার কৃষ্ণা রায়, সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাশেদ হোসাইন, অতিরিক্ত পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে নেতা-কর্মীদের ছত্রভঙ্গ করে দেন। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এলাকা দখলে নিলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
সম্মেলন আয়োজনকারীদের মধ্যে উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব মশিউল হুদা তুহিন ও যুবদলের সদস্যসচিব আবু জাহিদ সোহাগ বলেন, পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী সকাল ১০টা থেকে আমরা ভোটগ্রহণ করছিলাম। প্রতিপক্ষ পরিকল্পিতভাবে রড, লাঠি, ইটপাটকেল নিয়ে হামলা সম্মেলন প- করে দেয়। কর্মী ও জনগণ ক্ষিপ্ত হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুললে তারা পালাতে বাধ্য হয়। এরপর আমরা পুনরায় শান্তিপূর্ণভাবে ভোট শুরু করি, অধিকাংশ ভোটার ভোট দিয়েছেন। কিন্তু প্রশাসন সারিবদ্ধ লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিতে আসা ভোটারদের তাড়িয়ে দিয়ে সম্মেলন প- করে দেয়।
অপর পক্ষের আশাশুনি উপজেলা বিএনপির আরেক অংশের আহ্বায়ক আসিফুর রহমান তুহিন, সদস্য সচিব জাকির হোসেন বাচ্চু, যুগ্ম আহ্বায়ক খায়রুল আহসান বলেন, খুলনা বিভাগীয় টিমের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে নির্ধারিত তারিখের আগেই ত্যাগী নেতাদের বাদ রেখে গোপনে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী নিয়ে সম্মেলন শুরু করলে আমাদের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত হন, তখন সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।