নীতি লঙ্ঘন করে ভুয়া ডকুমেন্ট তৈরি করে ইসলামী ব্যাংকের ৮২৭ কোটি ৪২ লাখ ১৫ হাজার ৪২৫ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ৫২ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মামলায় ব্যাংকটির সাবেক চেয়ারম্যান ও এস আলম গ্রুপের মালিক সাইফুল আলমের ছেলে আহসানুল আলম এবং সেঞ্চুরি ফুড প্রোডাক্টসের মালিক আরিফুল ইসলাম চৌধুরীকেও আসামি করা হয়েছে। গতকাল দুদকের উপপরিচালক ইয়াছির আরাফাত মামলাটি করেন। দুদক জানিয়েছে, ইসলামী ব্যাংকের চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ করপোরেট শাখা থেকে ওই টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। যা সুদসহ ৯১৮ কোটি ৫৭ লাখ ৫৪ হাজার ৭১৮ টাকায় দাঁড়িয়েছে। মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে আত্মসাৎ ও অর্থের প্রকৃত উৎস গোপন ও স্থানান্তরের মাধ্যমে মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগ আনা হয়। রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদক প্রধান কার্যালয়ে গতকাল বেলা পৌনে ৩টায় এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সংস্থাটির মহাপরিচালক (প্রতিরোধ) মো. আক্তার হোসেন এসব তথ্য জানান।
মামলার আসামিদের মধ্যে আছেন ইসলামী ব্যাংকের সাবেক পরিচালক ড. মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, সাবেক নমিনি পরিচালক সৈয়দ আবু আসাদ, ব্যাংকের ইসি কমিটির সাবেক সদস্য ও ভাইস চেয়ারম্যান ডা. তানভীর আহমদ, ইসি কমিটির সাবেক সদস্য ও পরিচালক মো. কামরুল হাসান, সাবেক স্বতন্ত্র পরিচালক ও ইসি কমিটির সদস্য ড. মোহাম্মাদ সালেহ জহুর, সাবেক পরিচালক প্রফেসর মো. নাজমুল হাসান, ড. মো. ফসিউল আলম, আবু সাইদ মোহাম্মদ কাশেম, জামাল মোস্তফা চৌধুরী, ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ মনিরুল মাওলা, সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মাহবুব উল আলম, সাবেক ডিএমডি তাহের আহমেদ চৌধুরী, হাসনে আলম, মো. আবদুল জব্বার, এসইভিপি মো. সিদ্দিকুর রহমান, এএমডি এ এ এম হাবিবুর রহমান, মোহাম্মদ সাঈদ উল্লাহ, মো. ওমর ফারুক খান প্রমুখ।
সংস্থাটি জানিয়েছে, গত ১৯ ডিসেম্বর ইসলামী ব্যাংকের চট্টগ্রামের চাকতাই শাখা থেকে ১ হাজার ৯২ কোটি টাকা লুটপাটের ঘটনায় আহসানুল আলমসহ ৫৮ জনের বিরুদ্ধে এবং চট্টগ্রামের জুবিলী রোড শাখা থেকে প্রায় ১ হাজার ১১৪ কোটি টাকা লুটপাটের অভিযোগে গত ৯ জানুয়ারি এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলমের ছেলে আহসানুল আলম ও আশরাফুল আলম এবং ইসলামী ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ ৫৪ জনের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা করেছে দুদক।