বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর সিতাংশু কুমার সুর চৌধুরীর (এস কে সুর) লকার থেকে বিদেশি মুদ্রাসহ প্রায় ৫ কোটি টাকার সম্পদের খোঁজ পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এদিকে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) হলমার্কের ঋণ জালিয়াতির ঘটনায় সাত বছর আগে করা মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের এক মামলায় গতকাল তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে। এদিন দুদক আদালতে ২২ পাতার একটি জব্দ তালিকা উপস্থাপন করে। যা কিছু পাওয়া গেছে সেসব নথির সূত্র ধরে তার আরও কিছু সম্পদের তথ্য সংগ্রহে অভিযান চালানোর ক্ষেত্রে তারা আদালতের নির্দেশনা নিয়েছে বলে জানা গেছে। রবিবার রাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে তার তিনটি লকারে অভিযান চালিয়ে ১ হাজার পাঁচ গ্রাম সোনা, ৫৫ হাজার ইউরো, ১ লাখ ৬৭ হাজার ৩০০ ডলার ও ৭০ লাখ টাকার এফডিআর নথি জব্দ করেছে। অভিযান শেষে দুদকের পরিচালক কাজী সায়েমুজ্জমান বলেন, জব্দ করা সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৫ কোটি টাকার। এসকে সুরের জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের তথ্য থাকায় তার সম্পদের হিসাব দেওয়ার জন্য নোটিশ দেওয়া হয়। কিন্তু তিনি হিসাব জমা দেননি। এজন্য আমরা তার সম্পদ অনুসন্ধানের জন্য তার বাসায় অভিযান চালাই। অভিযানে তথ্য পাওয়া যায়- তার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের লকারে মালামাল রয়েছে। তার ভিত্তিতে আদালতের অনুমোদন ক্রমে বাংলাদেশ ব্যাংকের লকারে তল্লাশি করা হয়। যেসব এফডিআর পাওয়া গেছে, তা তার নামে নয়। যেসব অ্যাকাউন্টে আছে তা আমরা যাচাই করব। আদালত সূত্র জানায়, গতকাল এস কে সুরকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে রাজধানীর পল্লবী থানায় সাত বছর আগে করা মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে ২০১০ সালের ২৪ জুন থেকে ২০১২ সালের ২৮ নভেম্বরের মধ্যে ব্যাংক থেকে সাড়ে ১৩ কোটি টাকা স্থানান্তর করেন হলমার্কের সাবেক মহাব্যবস্থাপক (জিএম) তুষার আহমেদসহ অন্যরা। এ ঘটনায় ২০১৮ সালে পল্লবী থানায় তুষার আহমেদকে প্রধান আসামি করে মামলা করে দুদক। এই ঘটনার সঙ্গে এস কে সুরের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে আদালতকে জানায় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। আদালত তাকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
এর আগে গত ১৪ জানুয়ারি দুর্নীতির একটি মামলায় গ্রেপ্তার হন এস কে সুর। এদিন দুদকের এনফোর্সমেন্ট টিম রাজধানীর সেগুনবাগিচা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে। সেদিন তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। গত ২৩ ডিসেম্বর এস কে সুরের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা করে দুদক। সম্পদের বিবরণী নোটিশের জবাব না দেওয়ায় তার বিরুদ্ধে মামলাটি করা হয়। আলোচিত প্রশান্ত কুমার (পি কে) হালদারের আর্থিক কেলেঙ্কারিতে নাম আসায় ২০২২ সালে এস কে সুরের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। একই বছরের মার্চে তাকে দুদকে তলব করা হয়। তিনি ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে ডেপুটি গভর্নরের পদ থেকে অবসরে যান।
অভিযোগ রয়েছে, এস কে সুর বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর থাকাকালে আলোচিত এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক পি কে হালদারকে ঋণ কেলেঙ্কারির ঘটনায় সহযোগিতা করেছেন, সুবিধা নিয়েছেন।