যে কোনো ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে গণতন্ত্র, মানুষের বাকস্বাধীনতা ও ভোটের অধিকার ফিরিয়ে আনতে জনগণকে দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বহুদলীয় গণতন্ত্র হত্যা করে বাকশাল কায়েমের জন্য আওয়ামী লীগের কড়া সমালোচনাও করেছেন তিনি।
গত রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজে এক পোস্টে তারেক রহমান এসব কথা বলেন।
সব রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করে আওয়ামী বাকশাল গঠনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তারেক রহমান ফেসবুকে লিখেন- ‘১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকার চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত করার লক্ষ্যে বহুদলীয় গণতন্ত্রের গলা টিপে হত্যা করে বহুদলীয় ব্যবস্থার স্থলে একদলীয় সরকারব্যবস্থা ‘বাকশাল’ কায়েম করে। এই ব্যবস্থা কায়েম করতে গিয়ে তারা জাতীয় সংসদে বিরোধী মতামতকে উপেক্ষা করে একপ্রকার গায়ের জোরেই অমানবিক মধ্যযুগীয় চতুর্থ সংশোধনী আইন পাস করে।’
তারেক রহমান লিখেন- ‘ওই সময় সব সংবাদপত্র বাতিল করে তাদের অনুগত চারটি পত্রিকা চালু রাখার ফরমান জারি করে। দেশবাসীর দীর্ঘদিনের সংগ্রামের ফলে অর্জিত মানুষের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রকে তারা ভূলুণ্ঠিত করে সমাজে এক ভয়াবহ নৈরাজ্যের ঘন অমানিশা ছড়িয়ে দেয়।’ আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন- ‘একদলীয় বর্বর শাসন দীর্ঘায়িত করার অলীক স্বপ্নে শুধু গণতন্ত্রই নয়, দেশের ঐক্য, সংহতি ও সার্বভৌমত্বকে তারা সংকটাপন্ন করে তুলতেও দ্বিধা করেনি। বিরোধী দলের প্রতি আচরণে তারা কখনোই সভ্য রীতিনীতি অনুসরণ করেনি। তখন কারাগারই ছিল বিরোধী দলের ঠিকানা।’ আওয়ামী লীগের দুঃশাসনের কথা তুলে ধরে তিনি লিখেন- ‘গণতন্ত্রবিরোধী ও জনবিচ্ছিন্ন অবৈধ আওয়ামী লীগ সরকার ৫ আগস্টে ছাত্র-জনতার মিলিত দুর্বার আন্দোলনের মুখে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়।’
বর্তমানে দেশবাসীর করণীয় তুলে ধরে তিনি লিখেন- ‘এখন যে কোনো ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে গণতন্ত্র, মানুষের বাক-ব্যক্তি স্বাধীনতা ও ভোটের অধিকার ফিরিয়ে আনতে জনগণকে দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ হতে হবে। আল্লাহ হাফেজ। বাংলাদেশ জিন্দাবাদ।’