আগামী ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন পেতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন নতুন রাজনৈতিক দলের নেতারা। নতুন দলের নিবন্ধন প্রক্রিয়া সহজ করতে বেশ কিছু সুপারিশ করেছে নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশন। এ ছাড়া দলের সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়নের জন্য দলের তিন বছরের সদস্য পদ থাকা এবং প্রতি ৫ বছর পরপর দল নিবন্ধন নবায়ন বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব করা হয়েছে। নতুন দল নিবন্ধনের শর্ত শিথিলের জন্য ১০ শতাংশ জেলা এবং ৫ শতাংশ উপজেলা/থানায় দলের অফিস এবং ন্যূনতম ৫ হাজার সদস্য থাকার বিধানের সুপারিশ করা হয়েছে।
ইসি সূত্র জানিয়েছে, ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধন পেতে আবেদন করেছে ১৩টি রাজনৈতিক দল। তবে সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের অন্তত ছয় মাস আগেই নতুন রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের সুযোগ দেবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এজন্য আনুষ্ঠানিকভাবে নিবন্ধন আবেদন আহ্বান করে বিজ্ঞপ্তি দেবে সাংবিধানিক এই সংস্থাটি। এ ক্ষেত্রে নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন অনুযায়ী আইন-কানুনে প্রয়োজনীয় সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
নতুন দলের দৌড়ঝাঁড় : ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ১৩টি নতুন রাজনৈতিক দল নিবন্ধন পেতে নির্বাচন কমিশনে আবেদন করেছে। সংশ্লিষ্ট শাখা এ-সংক্রান্ত ফাইল নির্বাচন কমিশনে উপস্থাপন করেছে। এ ছাড়া রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন আলোচনা চলছে ‘জাতীয় নাগরিক কমিটি’ ও ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’ তথা এই দুই প্ল্যাটফর্মের নেতাদের উদ্যোগে ভিন্ন কোনো নামে রাজনৈতিক দল গঠন নিয়েও। সূত্র জানিয়েছে, আগামী ফেব্রুয়ারিতে তারুণ্যনির্ভর এই নতুন রাজনৈতিক দল আত্মপ্রকাশ করতে পারে। সংস্কার কমিশনের সুপারিশে বলা হয়েছে- নতুন দল নিবন্ধনের শর্ত শিথিলের লক্ষ্যে ১০ শতাংশ জেলা এবং ৫ শতাংশ উপজেলা/থানায় দলের অফিস এবং ন্যূনতম ৫ হাজার সদস্য থাকার বিধান করা। দলের সাধারণ সদস্যদের তালিকা প্রস্তুত করে তা ওয়েবসাইটে প্রকাশ; তালিকা প্রতিবছর হালনাগাদ করা; আইসিটি আইনে সাজাপ্রাপ্ত সব ব্যক্তিকে কোনো দলের সাধারণ সদস্য/কমিটির সদস্য হওয়ার অযোগ্য করা। এ ছাড়া গুরুতর মানবাধিকার (বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম, অমানবিক নির্যাতন, সাংবাদিকদের/মানবাধিকারকর্মীর ওপর হামলা, অর্থ পাচার) লঙ্ঘনকারীদের বিষয়ে প্রণীত একটি বিশেষ আইনের অধীনে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইসিটি আইনে সৃষ্ট আদালতে অভিযোগপত্র গৃহীত হলে সেসব ব্যক্তিকে কোনো দলের সাধারণ সদস্য/কমিটির সদস্য হওয়ার অযোগ্য করার কথা বলা হয়েছে। এদিকে দলের সাধারণ সদস্যদের গোপন ভোটে দলের স্থানীয় থেকে জাতীয় পর্যায়ের সব কমিটি নির্বাচিত করা। দলের সাধারণ সদস্যদের গোপন ভোটে প্রতিটি নির্বাচনি এলাকা থেকে সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য তিনজনের একটি প্যানেল তৈরি এবং তা থেকে দলীয় মনোনয়ন প্রদানের বিধান করা। দলের সদস্যদের চাঁদা ন্যূনতম ১০০ টাকা ও কোনো ব্যক্তির কাছ থেকে অনুদান হিসেবে সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা নেওয়ার বিধান করা। এ অনুদান ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে গ্রহণের বাধ্যবাধকতা সৃষ্টি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ট্যাক্স রিটার্নে প্রদর্শনের বিধান করা। দলের তহবিল ব্যবস্থাপনায় বর্তমানে বিদ্যমান ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নিবন্ধিত দল কর্তৃক বাৎসরিকভাবে দাখিলকৃত অডিটেড আয় ও ব্যয়ের হিসাব কমিশন কর্তৃক বাধ্যতামূলকভাবে নিরীক্ষণের বিধান করা। দলের লেজুড়বৃত্তিক ছাত্র, শিক্ষক ও শ্রমিক সংগঠন, ভাতৃপ্রতিম বা যে কোনো নামেই হোক না কেন, না থাকার বিধান করা। দলের, যে কোনো নামেই হোক না কেন, বিদেশি শাখা না থাকার বিধান করার সুপারিশ করা হয়েছে। এ বিষয়ে নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের প্রধান বদিউল আলম মজুমদার বলেছেন, রাজনৈতিক দলগুলো যাতে সদস্যদের কাছে দায়বদ্ধ থাকে তা বিবেচনায় ও কিছু সুপারিশ করা হয়েছে। সদস্য বাছাই প্রক্রিয়ায় যেন মানবাধিকার লঙ্ঘনের মতো অপরাধী স্থান না পায় সেজন্য দলগুলোকে দায়বদ্ধ ও স্বচ্ছ হতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোকে দায়বদ্ধ হতে হবে, আর্থিক দিক থেকে স্বচ্ছ হতে হবে। সদস্যদের কাছ থেকে নেওয়া ফি, অনুদান আমরা নির্ধারণ করে দিয়েছি; দলের ব্যয় ইসিতে দেওয়ার পর তা প্রকাশ করতে হবে। অপরাধে জড়িতদের যেন রাজনৈতিক দলের সদস্য না করে। রাজনৈতিক অঙ্গনও পরিচ্ছন্ন করার সুপারিশ দিয়েছি।