‘অন্তর্বর্তী সরকার বেশ কিছু বিষয়ে নিরপেক্ষতা রক্ষা করতে পারছে না’ বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এ বক্তব্যে ১/১১ সরকার গঠনের ইঙ্গিত দেখছেন অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা মো. নাহিদ ইসলাম। গতকাল নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে তিনি এ কথা লেখেন। তথ্য উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম লিখেছেন, ‘বিএনপি মহাসচিবের নিরপেক্ষ সরকারের দাবি মূলত আরেকটা ১/১১ সরকার গঠনের ইঙ্গিত বহন করে। ১/১১-এর বন্দোবস্ত থেকেই আওয়ামী ফ্যাসিজমের উত্থান ঘটেছিল। বিএনপি মহাসচিবের বক্তব্যে সামনে আরেকটা ১/১১ সরকার, সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা ও নতজানু পররাষ্ট্রনীতির ধারাবাহিকতা এবং গুম-খুন ও জুলাই হত্যাকাে র বিচার না হওয়ার আলামত রয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘ছাত্র এবং অভ্যুত্থানের নেতৃত্বকে মাইনাস করার পরিকল্পনা ৫ আগস্টই শুরু হয়েছে। ৫ আগস্ট যখন ছাত্র-জনতা রাজপথে লড়াই করছে, পুলিশের গুলি অব্যাহত রয়েছে, তখন আমাদের আপসকামী অনেক জাতীয় নেতৃবৃন্দ ক্যান্টনমেন্টে জনগণকে বাদ দিয়ে নতুন সরকার করার পরিকল্পনায় ব্যস্ত ছিলেন (অনেকে ছাত্রদের কথাও বলেছেন সেখানে)। আমরা ৩ আগস্ট থেকে বলে আসছি আমরা কোনো প্রকারের সেনাশাসন বা জরুরি অবস্থা মেনে নেব না। আমাদের বারবার ক্যান্টনমেন্টে যেতে বলা হলেও আমরা যেতে অস্বীকার করি। শেষ পর্যন্ত বঙ্গভবনে আলোচনা ও বার্গেনিংয়ের মাধ্যমে ড. ইউনূসকে প্রধান করে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের সিদ্ধান্ত হয়।’
উপদেষ্টারা রাজনীতি করলে সরকার থেকে বের হয়ে করবে : ফেসবুক পেজে এক স্ট্যাটাসে স্থানীয় সরকার এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, ‘উপদেষ্টাদের কেউ রাজনীতি করলে সরকার থেকে বের হয়ে করবে।’ একই সঙ্গে সরকারের কাজে রাজনৈতিক দলের হস্তক্ষেপ অনুচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি। গতকাল বিকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে স্ট্যাটাসে এসব মন্তব্য করেন আসিফ মাহমুদ। তিনি বলেন, ‘সরকারে থেকে রাজনৈতিক দলের সাথে কোনো প্রকার সংশ্লিষ্টতার বিরুদ্ধে আমরাও। উপদেষ্টাদের কেউ রাজনীতি করলে সরকার থেকে বের হয়েই করবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘একই সাথে রাজনৈতিক দলেরও সরকারের কাজে হস্তক্ষেপ করা অনুচিত। বিভিন্ন সরকারি/সাংবিধানিক গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগে তদবির/চাপ প্রয়োগ করা অনুচিত।’ উপদেষ্টা নাহিদ ইসলামের ফেসবুকে প্রতিক্রিয়া জানানোর পর উপদেষ্টা আসিফ এ স্ট্যাটাস দেন।
১/১১-এর ফর্মুলা বিএনপির : বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আবদুল্লাহ গতকাল নিজের ফেসবুকে ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে বলেছেন, ‘গণ-অভ্যুত্থানের পরে বাংলাদেশের কাঠামোগত পরিবর্তন করার সময় ও সুযোগ এলো। অথচ বিএনপি দেশ পুনর্গঠনের এ সুযোগ অবমূল্যায়ন করে হাজির হলো ১/১১ সরকারের ফর্মুলার আলাপ নিয়ে।’ তিনি বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকার যখন দেশ সংস্কারের কাজে নিয়োজিত হলো তখন বিএনপি এসে বলল, এ সংস্কার করার ম্যান্ডেট অন্তর্বর্তী সরকারের নেই। অথচ বিএনপি ভুলে গেল, গণ-অভ্যুত্থানের ফলে গঠিত হওয়া সরকারের ম্যান্ডেট ষাট-সত্তর ভাগ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হওয়া রাজনৈতিক দলের চেয়েও বেশি।’