ইতালির রোম থেকে ঢাকাগামী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে গতকাল বোমা থাকার হুমকিতে তোলপাড় শুরু হয় শাহজালাল বিমানবন্দরে। পাকিস্তানি একটি ফোন নম্বর থেকে বিমানবন্দর এপিবিএন-এর হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে বোমা হামলার হুমকির পর সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়। ফ্লাইটটি বিমানবন্দরে অবতরণের পর যাত্রীদের নিরাপদে বের করে নিয়ে আসে যৌথ বাহিনী। এরপর শ্বাসরুদ্ধকর ৬ ঘণ্টা সময় পার করেন সংশ্লিষ্টরা। তবে শেষ পর্যন্ত উড়োজাহাজটিতে তল্লাশি চালিয়ে বোমা বা বোমাজাতীয় কোনো বস্তুর উপস্থিতি পায়নি বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল।
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মঞ্জুর কবীর ভুঁইয়া জানান, ‘পাকিস্তানি নম্বর থেকে হোয়াটসঅ্যাপে ম্যাসেজ আসে। দুইটা ব্যাগ আমরা সন্দেহ করেছিলাম। তবে কোথাও কিছু পাওয়া যায়নি।’
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ফ্লাইটে বোমা থাকার গুজব সংবলিত বার্তাটি পাঠানো হয় হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে। অপরিচিত একটি পাকিস্তানি নম্বর দিয়ে খোলা হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট থেকে গতকাল ভোর সাড়ে ৫টার দিকে বার্তা আসে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কন্ট্রোল রুমে। পরে সেখানকার কর্মরতরা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিষয়টি অবহিত করেন। খবর পাওয়ার পরপরই বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ারভাইস মার্শাল মঞ্জুর কবীর ভুঁইয়া, বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন কামরুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট অনেকেই বিমানবন্দরে ছুটে আসেন। শুরু হয় নিরাপত্তা সদস্যদের মোতায়েন। বিমান বাহিনীর একটি বোমা নিষ্ক্রিয় দল, কুইক রেসপন্স ফোর্স, ফায়ার সার্ভিসসহ আইনশৃঙ্খলার বিভিন্ন বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য ব্যাপক প্রস্তুতি নেন।
বিমানবন্দর এপিবিএন সূত্র জানিয়েছে, সে সময় দায়িত্বে ছিলেন এএসপি আবদুল হান্নান। ওই বার্তায় বলা হয়, বিমানের রোম থেকে ঢাকা অভিমুখী ফ্লাইটে ৩৪ কেজি বিস্ফোরক রয়েছে। শাহজালাল বিমানবন্দরে ফ্লাইটটি অবতরণের পর এগুলো বিস্ফোরণ ঘটানো হবে। হোয়াটসঅ্যাপের যে নম্বরটি থেকে বার্তাটি আসে সেটি পাকিস্তানি বলে জানিয়েছে এপিবিএন। বার্তাটি সতর্কতা হিসেবে জানানোর জন্য দেওয়া হয়েছে, এটি কোনো হুমকি নয় বলেও বার্তায় উল্লেখ করা হয়। বার্তা পাওয়ার পর ওই নম্বরে ফোন করা হলেও তা রিসিভ করা হয়নি উল্লেখ করে এপিবিএন সূত্র জানায়, বিমানবন্দর থেকে ফোন করা হলেও অপরপ্রান্ত থেকে সেটি রিসিভ করা হয়নি। তবে একই সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপে চ্যাটিং অব্যাহত রাখা হয়, পাশাপাশি বিমানবন্দরে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়। নিরাপত্তাবেষ্টনীতে ঘিরে ফেলা হয় উড়োজাহাজটি। বিস্ফোরক কারা রেখেছে, হোয়াটসঅ্যাপে চ্যাটিংয়ে এমন প্রশ্ন করা হলে বলা হয়, কোনো বিরোধী পক্ষ আন্তর্জাতিক দৃষ্টি আনার জন্য করতে পারে।
জানা গেছে, বিজি-৩৫৬ নম্বর ফ্লাইটটি রোম থেকে ঢাকায় আসার পথে বোমা হামলার হুমকি পায় এপিবিএন। ফ্লাইটটি গতকাল সকাল ৯টা ২০ মিনিটে হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে অবতরণ করে। আগে থেকে প্রস্তুত থাকা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যাত্রীদের নিরাপদে বের করে নিয়ে আসে। যাত্রীদের রাখা হয় টার্মিনাল ভবনে। সে সময় কাউকে ইমিগ্রেশন করতে দেওয়া হয়নি। পরে পুরো প্লেনে তল্লাশি চালানো হয়। সূত্র জানায়, পুরো প্লেন তল্লাশি করে কোনো বোমা বা বোমাসদৃশ কিছু পাওয়া যায়নি। যাত্রীদের সব ব্যাগেজ চেক করা হয়। কোথাও বিস্ফোরক বা কিছু পাওয়া যায়নি। পরে যাত্রীদের ব্যাগেজ ফেরত দেওয়া হয়। ফ্লাইটটি মঙ্গলবার স্থানীয় সময় রাত ৮টায় রোমের লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চি বিমানবন্দর থেকে রওনা হয়েছিল।
তল্লাশি অভিযান সমাপ্তি ঘোষণার পর বিকাল ৪টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বোমা হামলার হুমকির বিষয়ে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মঞ্জুর কবীর ভুঁইয়া বলেন, বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি বিমান রোম থেকে যাত্রা করে ঢাকায় সকাল ৯টা ২০ মিনিটে অবতরণ করে। ২৫০ জন যাত্রী এবং ১৩ জন ক্রু ছিল। আমরা তথ্য পাওয়ার পর সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়ে রাখি। যাত্রীদের চেক করে নিরাপদে বের করে নিয়ে আসা এবং বোমা তল্লাশিতে প্রতিটি সংস্থা সুন্দরভাবে কাজ করে এবং যাত্রীদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা ছিল টার্মিনালে। প্রত্যেক যাত্রী কোঅপারেশন করেছেন। তিনি আরও বলেন, এত বড় অপারেশনে কোনো ছন্দপতন ঘটেনি। আমি বিমানবাহিনী প্রধানের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করব। তাকে সংবাদটা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সবাই হাজির হয়েছেন। বেবিচক চেয়ারম্যান বলেন, যখন আমরা তদন্ত করি তখন দুটি ব্যাগ সন্দেহ করেছিলাম। আমরা প্রতিটি লাগেজ স্ক্যানিং করে নামিয়েছি। নিচে আবার স্ক্যানিং করেছি। টোটাল জিনিসটা খুব সুন্দর করে করা হয়েছে। সবাই সুস্থ আছেন, ভালো আছেন।