পিলখানা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় কারাগারে আটক থাকা ১৭৮ বিডিআর জওয়ানের মুক্তিতে আর বাধা নেই। গতকাল বিকালে ঢাকার বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক মো. ইব্রাহিম মিয়ার আদালত জামিনপ্রাপ্ত এসব আসামির নাম প্রকাশ করেন। এর মধ্য দিয়ে ১৬ বছর পর কারামুক্ত হতে যাচ্ছেন তারা। এর আগে গত রবিবার হত্যা মামলায় নিম্ন আদালত ও উচ্চ আদালত থেকে খালাস পাওয়া ব্যক্তিরা বিস্ফোরক আইনের মামলায় জামিন পান।
রাষ্ট্রপক্ষে সংশ্লিষ্ট আদালতের চিফ প্রসিকিউটর মো. বোরহান উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, রবিবার হত্যা মামলায় নিম্ন ও উচ্চ আদালত থেকে খালাসপ্রাপ্তদের বিস্ফোরক আইনের মামলায় জামিনের আদেশ দেন বিচারক। আজ (গতকাল) যাচাইবাছাই শেষে ১৭৮ জনের জামিন পাওয়ার তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। বুধবার (আজ) তাদের জামিননামা দাখিল করা হবে। এরপর তাদের জামিনসংক্রান্ত নথিপত্র কারাগারে গেলে সেখানে কারাবিধি অনুযায়ী কারামুক্ত হবেন তারা।
তিনি আরও বলেন, হত্যা মামলায় খালাসপ্রাপ্তদের মধ্যে রাষ্ট্রপক্ষের আপিলে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পেয়েছেন এমন ১৫ জন বাদে সবাইকে জামিন দেওয়া হয়েছে। প্রকাশিত তালিকা স্বচ্ছতার ভিত্তিতে করা হয়েছে।
২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকার পিলখানায় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদর দপ্তরে বিদ্রোহের ঘটনায় ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন নিহত হন। সে ঘটনায় হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে দুটি মামলা হয়। হত্যা মামলায় ৮৫০ জনের বিচার শেষ হয় ২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর। তাতে ১৫২ জনের ফাঁসি, ১৬০ জনের যাবজ্জীবন ও ২৫৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। খালাস পান ২৭৮ জন। ২০১৭ সালের ২৭ নভেম্বর সেই মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের রায়ও হয়ে যায় হাইকোর্টে। তাতে ১৩৯ আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়। যাবজ্জীবন সাজা দেওয়া হয় ১৮৫ জনকে। আরও ২২৮ জনকে দেওয়া হয় বিভিন্ন মেয়াদে সাজা। খালাস পান ২৮৩ জন। হাই কোর্টের রায়ের আগে ১৫ জনসহ সব মিলিয়ে ৫৪ জন আসামি মারা গেছেন। হত্যা মামলায় হাই কোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে ২২৬ জন আসামি আপিল ও লিভ টু আপিল করেছেন।
অন্যদিকে হাইকোর্টে ৮৩ জন আসামির খালাস এবং সাজা কমানোর রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। এসব আপিল ও লিভ টু আপিল এখন শুনানির অপেক্ষায়। ২০১০ সালে বিস্ফোরক আইনের মামলায় ৮৩৪ আসামির বিরুদ্ধে বিচারকাজও শুরু হয়েছিল। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনার তদন্ত পুনরায় শুরুর দাবি উঠছে। গত ১৯ ডিসেম্বর অভিযোগ নিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে যান শহীদ পরিবারের সদস্যরা। এই হত্যাকাণ্ড পুনরায় তদন্তের জন্য গত ২৪ ডিসেম্বর আ ল ম ফজলুর রহমানকে প্রধান করে কমিশন গঠন করে ৯০ দিনের সময় নির্ধারণ করে দিয়েছে সরকার।